১৯৭৩ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জে.এস.এস) সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর সরকারের কাছে এমএন লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্বশাসন দাবি করলে সরকার তা একবাক্যে বাতিল করে দেন যার পরিণতিতে তারা এই সংগঠনটি গঠন করে। ১৯৭৫ সালে তারা তাদের দাবিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে যার সামরিক শাখার নাম ছিল শান্তিবাহিনী। বস্তুত নামে শান্তিবাহিনী হলে কি হবে এমন কোন অশান্তির কাজ ছিলনা যা তারা করেনি। সেই ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই শান্তিবাহিনী হয়ে উঠে পার্বত্য বাঙালীদের জন্য চরম বিভীষীকা। হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ, অত্যাচার, চাঁদাবাজি হেন কাজ নেই যা তারা বাকি রাখেনি। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি করার পর লোক দেখানো কিছু অস্ত্র জমা দেয়ার কারনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয়ভাবে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রবাদ বাক্যে আছে, “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে”। জনসংহতি সমিতি (জে.এস.এস) শান্তি চুক্তির পর বড় বড় সরকারী পদ দখল করে এবং তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত ভাবধারা সংরক্ষণের খাতিরে শান্তি চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ নামক আরেকটি সংগঠনকে দাড় করিয়ে দেয়। শান্তি চুক্তির কারনে যেহেতু শান্তিবাহিনী সশস্ত্র কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে না, তাই ইউপিডিএফের মাধ্যমে তারা তাদের ফায়দা হাসিল ও দাবি আদায় করতে থাকে। আর এই ইউপিডিএফ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে হিংস্রতার শীর্ষে অবস্থান করে বাঙালীদের ঘুমকে হারাম করে দিচ্ছে। আগে চাঁদাবাজি করত শুধু শান্তিবাহিনী আর পরবর্তীতে ইউপিডিএফ যোগ হওয়ায় সাধারণ বাঙালীদের দুই পক্ষকে চাঁদা দিতে হয়। শিক্ষিত বিবেকবান মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বুঝে নিবে এই ইউপিডিএফ এর সৃষ্টি কেন হয়েছিল। অতি সম্প্রতি জে.এস.এস ভেঙ্গে দুটি দল গঠন করে জে.এস.এস(সন্তু লারমা) এবং জে.এস.এস (এম.এন)। এর পরে বলতে অপেক্ষা রাখেনা যে, চাঁদাবাজি-হত্যা-লুন্ঠনকে সম্প্রসারণের নিমিত্তেই এই সংগঠনগুলোর বিভাজন হচ্ছে। পরবর্তী স্ট্যটাসে চোখ রাখুন এই তিন সংগঠন মিলে বাঙালীদের উপর কি পরিমাণ চাঁদাবাজি করছে। (চলবে…)

রক্তাক্ত পাহাড়; প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম-২

Leave a Reply