ঢাকা, bd24live.com : আবারো সেই হরতাল। দুঃসহ সেই দিনগুলি বাঙ্গালির জীবনে আবার আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এই যে হরতাল ডেকেছে বিএনপি তাতে কার লাভ বেশি; বিএনপির, সরকারের নাকি যাদের কথা ভেবে হরতাল দিচ্ছে বলে দাবি করছে সেই সাধারন জনগন?

আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকে এই নিয়ে মাত্র ৬ষ্ঠ বারের মতো হরতাল ডাকা হয়েছে। তাওতো কমই বলা চলে। আমাদের বাঙ্গালিদের জন্য হরতাল একটি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিল এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকেই। কিন্তু নির্বাচনের সময় উভয় দলই ওয়াদা করেছিল হরতাল না দেওয়ার। কিন্তু তারা কি তা মেনেছে? কখনোই নয়। ফলে এটাও সাধারন জনগনের কাছে স্পস্ট হয়ে উঠেছে যে তারা ওয়াদা করে শুধু ক্ষমতায় আসার জন্য। কিন্তু যেটা নিয়ে ভাবার সেটা তারা খুব কমই করে থাকে। এবার দেখা যাক এই হরতাল আহ্বান করে আসলে কে লাভবান হচ্ছে?

প্রথমত, বিএনপি যখন প্রথম হরতাল আহ্বান করল তখন ছিল ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি। সাধারন জনগন বিশেষ করে যারা ঢাকায় কাজের জন্য আসে তাদের দুরাবস্থা ছিল লক্ষ্য করার মত । এমন মানুষ খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর হবে যারা এই হরতালে বিরক্ত হয়নি। বিএনপি যদি সাধারন জনগনের কথাই চিন্তা করে থাকে তাহলে এমন হরতাল দিয়ে কি আসলে তাদের কোন উপকার হয়েছে? নাকি সরকার ও সাধারন জনগনের উপকার হয়েছে?

দ্বিতীয়ত, হরতালে সাধারন জনগনের যে ভোগান্তি হয়, যে ক্ষতি সাধারন মানুষের হয় তাতে আসলে লাভ কার; বিএনপি’র, সরকারের না সাধারন জনগনের? আসলে কারোই না।

তৃতীয়ত, এ পর্যন্ত হরতাল সহিংসতায় মোট ২৩ জন নাগরিক নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েকশত আর যানবাহনের ক্ষতিতো বলার অপেক্ষা রাখেনা। যারা নিহত হয়েছে তাদের খবর কি কোন দল রাখে কিংবা রাখবে? কখনোই সে আশা করা যায় না। তাহলে আসলে কি এতে কারও লাভ হচ্ছে?

পঞ্চম, হরতালে যে পরিমান টাকা আমরা উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি তা কি কোণভাবে মেটানো সম্ভব? যদি না হয় তাহলে এই হরতাল কেন?

সর্বোপরি দেখা যাচ্ছে যে হরতালের ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে তা কোনভাবেই মেটানো সম্ভব না। তাহলে আবার এই হরতাল কেন? জনগন কি চায় তারা কি তা জানেনা?
মূল কথা হচ্ছে তারা সবই জানে, বুঝে কিন্তু বুঝতে চায় না। এমন অবস্থায় কতদিন জনগন এই দুই দলের উপর আস্থা( আস্থা তো নয়, কবে যে ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায়) রাখে সেটাই দেখার বিষয়। সেই দিন বোধহয় আর বেশি দূরে নয়।

আসলে হরতাল কি?

হরতাল ভারতীয় ভাষায় সর্বাত্মক ধর্মঘটের প্রকাশক। মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। এটা হচ্ছে জনগণের সম্মলিত আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে। হরতালের সময় সকল কর্মক্ষেত্র, দোকান, আদালত বন্ধ থাকে।

তবে সাধারণত: এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিস, গণমাধ্যম সমূহ এর আওতার বাইরে হয়ে থাকে। হরতাল শব্দটি মূলত একটা গুজরাটিয় শব্দ। এটা সাধারণত: কোন একটা বিষয়কে আদায় করার বা এর গুরুত্ব বোঝাতে করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, দ্রব্য মূল্যের অত্যধিক বা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি রোধ করা ক্ষেত্রে সরকারী দলের মাথার টনক নড়াতেও এটা ব্যবহার করা হয়। আর এটি একটা উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে। আরও বিভিন্ন কারণে হরতাল ডাকা হয়।

 

সূত্র: উইকেপিডিয়া, কিছু বাংলা ব্লগ

হরতাল কি এবং কেন? কার লাভ?

Leave a Reply