বিশ্ব সভ্যতায় ইসলাম এবং আল কুরআনের অবদান কতটুকো চিন্তাশীল ব্যক্তি মাত্রই বিষয়টি উপলদ্ধি করে থাকবেন। ধরনীতে এমন কোন জনপদ নেই যেখানে এই মহান গ্রন্থের কোন না কোন কল্যানময় প্রভাব নেই। যুগে যুগে অমুসলিম দার্শনিকগন পর্যন্ত একে এক মহাবিষ্ময়কর গ্রন্থরূপে অভিহিত করেছেন ! সুতরাং এর দ্ধারাই প্রমানিত হয় এই গ্রন্থে এক অদৃশ্য মহাশক্তি লুকায়িত। হাদিস শরিফে মহানবী এরশাদ করেন যে মুসলিম পবিত্র কুরআনের মাত্র একটি অক্ষর পড়ে তার আমলনামায় দশটি নেকি লিখা হয়ে যায় ! অনত্র এরশাদ করেন যে ব্যক্তি রাতে কিছুক্ষন (কুরআন অনুসরন করে) এলমে দ্বীন শিক্ষা করে তার আমলনামায় সাড়া রাত নফল এবাদত করার সওয়াব লিখা হয় ! এই হাদিস দ্ধারা প্রমানিত হয় যে ব্যক্তি শুধু কুরআন পড়ে তারচেয়ে যে ব্যক্তি কুরআনের জ্ঞান অর্জন করে তার মুল্যে মহান রবের নিকট অনেক বেশি! অতপর যে ব্যক্তি কুরআন গবেষনার পর সেই মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে তার মযর্াদা যে ব্যক্তি শুধু গবেষনা করে তার চেয়ে অনেক বেশি ! অতপর যে ব্যক্তি কুরআন গবেষনার পর নিজে আমল করে এবং পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাচানোর জন্য তাদেরকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দেয় তার মর্যাদা যে ব্যক্তি শুধু কুরআন গবেষনা করে ও নিজে আমল করে তার চেয়ে মহান রবের নিকট অনেক বেশি ! পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ”হে ঈমানদারগন। তোমরা তোমাদের পরিবারকে ধর্মীয় উপদেশ দান করার মাধ্যমে জাহন্নামের আগুন থেকে বাচাও” অতপর যারা এই দায়িত্ব পালন করার পর নিকট আত্বীয় স্বজন, বন্ধমহল, প্রতিবেশি ও সমাজের আত্বভোলা লোকগুলোকে কুরআনের হেদায়েতের দিকে আহবান জানায় তার মর্যাদা মহান রবের নিকট কত উপরে সেটা তিনিই ভাল জানেন ! অনেকেরই ধারণা আল্লাহর এবাদত বন্দেগী করার জন্য কিছু মাসয়ালা মাসায়েল এবং কিছু সুরা মুখস্ত করে নেওয়াই সাধারন লোকদের জন্য যথেষ্ট। অনেকেই মনে করেন কুরআনের মর্মবানী অনুধাবন করা সাধারন লোকদের পক্ষে সম্ভবপর নয়, এই কুরআন অনুধাবন করবে আলেমগন আর আমরা যেহেতু সাধারন মানুষ তারা কি বলে আমরা তা শুনব! বস্তুত ইহা এক প্রকার শয়তানের ধোকা ব্যতিত আর কিছুই নয় কারন আলেম বা মুরবি্বগন কুরআনের সঠিক ব্যক্ষা দিতে পারছে কিনা সেটা হৃদয়ঙ্গম করার জন্যইত প্রত্যেক শিক্ষিত লোকদের কুরআনের মর্মবানী অনুধাবন করার জন্য সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন যেন প্রত্যেকটি শিক্ষিত লোক কুরআনের জ্ঞান অর্জন করে অন্তরদৃষ্টি লাভ করতে পারে। একটি কথা প্রত্যেক মুসলিমকে স্বরণ রাখা প্রয়োজন যে, মহানবীর প্রায় সকল সাহাবী আলেম ছিলেন ! আল্লাহ পাক মুসলিম জাতীকে লক্ষ্য করে বলেন ”আমি কুরআন অনুধাবন করার জন্য সহজ করে দিব অতএব এমন কোন চিন্তাশীল তোমাদের মধ্যে আছে কি” লক্ষ্য করে দেখুনত উক্ত আয়াতে সমগ্র মুসলিম জাতীকে কুরআন অধ্যায়ন করতে বলা হয়েছে নাকি শুধু আলেমদেরকে ? কুরআন যারা গবেষনা করবে তাদেরকে উক্ত আয়াতে আল্লাহ চিন্তাশীল আখ্যায়িত করেছেন এর চাইতে সোভাগ্যের বস্তু আর কি হতে পারে বলুনত। আর যারা কুরআন অধ্যায়ন নিষ্প্রয়োজন মনে করে তাদের জন্য রয়েছে একটি ভয়ংকর আয়াত। এরশাদ হচ্ছে ”(হে মুসলিম জাতী) তোমরা কি কুরআনের শিক্ষামালার উপর দৃষ্টিপাত করবেনা নাকি তোমাদের অন্তর তালাবদ্ধ ? হয়ত অনেকেই জানেন তালাবদ্ধ শব্দটি কাফেরদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ”এরশাদ হয়েছে ”তাদের হৃদয় কান তালাবদ্ধ এবং তাদের দৃষ্টির উপর আবরন পরে গেছে আর তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে অত্যান্ত কঠিন শাস্তী। আল্লাহ পাক যেন বুঝাতে চাচ্ছেন ক্রমাগত কুফরী করার কারনে কাফেরদের অন্তর যেমন তালাবদ্ধ ঠিক তেমনিভাবে যে সমস্ত মুসলিম কুরআনের মত বৃহত্তম নেয়ামত পেয়েও তার মর্মবানী উপলদ্ধি করা নিষপ্রয়োজন মনে করে তাদের অন্তরটাও ঠিক কাফেরদের মতই তালাবদ্ধ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যারা আলেম নয় তাদের জন্য সহজে কুরআনের উপর মুটামুটি একটি ভাল ধারনা অর্জন করার উপায় কি ? আমি সংক্ষেপে বলব এখন বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদদের তাফসীর বাংলা অনুবাদ হয়ে গেছে এটা বাঙ্গালী জাতীর জন্য সোভাগ্যই বলা যায় যেমন তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন, তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে আশরাফী, তাফসীরে উসমানী এবং তাফহীমুল কুরআন। বস্তুত এগুলো হচ্ছে কুরআনের জ্ঞানের একেকটি খনি। ইসলামের এই মহান মুফাসসিরগন অত্যান্ত বিচক্ষনতার সঙ্গে পবিত্র কুরআনের ব্যক্ষা প্রদান করেছেন যেন মুসলিম জাতী কুরআনের জ্ঞান আহরন করে অন্তরদৃষ্টি লাভ করতে পারে ! আপনি যে কোন একটি তাফসীর ক্রয় করে প্রত্যেহ যদি ১/২ ঘন্টা সময় কুরআনের মর্মবানী অনুধাবন করার জন্য বরাদ্ধ করেন তাহলে নিজেই প্রতিই সুবিচার করা হবে। আপনি যদি কুরআন অধ্যায়ন করেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনার ছেলেমেয়ে করবে আর এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত এই অধ্যায়নের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। যেহেতু এই এই আদর্শের বীজ আপনি প্রথমে বপন করেছেন তাই কিয়ামত পর্যন্ত আপনার বংশ থেকে যত মানুষ বের হবে এবং তারা এই কুরআন অধ্যায়ন করে যত নেক আমল করবে তার একটি অংশ আপনি কবর দেশে থেকে পেতেই থাকবেন ! আর যদি আপনি ধর্মহীন থেকে সন্তানদেরও ধর্মহীন রেখে যান তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত আপনার বংশে গোনাহগার মানুষ জন্ম লাভ করতে থাকবে ফলে তারা মহান প্রতিপালকের যত হুকুম অমান্য করবে তার একটা অংশ আপনি পেতে থাকবেন এতে কোনই সন্দেহ নেই ! এর ভয়ংকর ফলাফল হল অনন্তকালের জন্য আপনিও নরকবাসী এবং আপনার বংশধরও নরকবাসী। প্রমানসরূপ বলতে চাই আল্লাহপাক বলেন ”কিয়ামতের দিন তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রন্থ হবে যারা তার পরিবার পরিজনকে (এবাদতের পথে পরিচালনা না করে) ক্ষতির মধ্যে রেখে গিয়েছে” আল কুরআন। প্রবন্ধ দির্ঘায়িত করে আপনাদের মুল্যেবান সময় আর নষ্ট করতে চাইনা অবশেষে বলতে চাই একটি তাফসীর সেট করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৩৫০০ টাকা নিয়ে যেতে হতো মার্কেটে আর এখন কতিপয় লোকদের সাধনায় পাচ্ছেন ফ্রি ! এছাড়াও পৃথিবীর সেরা সেরা ইসলামী চিন্তাবিদদের প্রায় দুই শতাধিক বাংলা ইসলামী সাহিত্য ডাউনলোড করতে পারবেন সম্পূর্ন ফ্রি যার মার্কেট ভেলু প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা ! আর যে ৩৪৬ টি আয়াত নিয়ে আজকে উপস্থিত হয়েছি এই আয়াতগুলো সবচেয়ে বেশি গুরত্বপূর্ন। দির্ঘ একযুগ কুরআন গবেষনা করে যে আয়াতগুলো বেশি গুরত্বপূর্ন মনে করেছি সেগুলোই বাছাই করেছি। পড়তে গিয়ে আপনাদের অনূভুত হবে সমগ্র কুরআনের শিক্ষামালা এই ৩৪৬ টি আয়াতেই ফুটে উঠেছে এতে কোনই সন্দেহ নেই ! কথায় কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে সকল ভাইদের নিকট ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি প্রত্যাসা করছি।

কেন কুরআন গবেষনা করবেন ?
স্রষ্টার আদেশ নিষেধগুলো জেনে সেই মোতাবেক আমল করার জন্য।
পরিবারবর্গকে সতর্ক করার জন্য।
প্রতিবেশিকে সতর্ক করার জন্য।
বন্ধু মহলকে সতর্ক করার জন্য।
আত্বীয় স্বজনকে সতর্ক করার জন্য।
শাসক গোষ্টিকে সতর্ক করার জন্য।
অমুসলিম সমপ্রদায়কে সতর্ক করার জন্য।

৩৪৬ টি আয়াত প্রায় ৪৪০০০ কেবি। কয়েকটি ব্লগ ও ফোরামে সরাসরি পোষ্টিং দেওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু আর্টিক্যলের সাইজ অনেক বড় হওয়ার পোষ্টিং নেয়নি। আর বেশি বড় আর্টিক্যল পোষ্টিং দিয়ে সাইটের হোষ্টিং খরচ করা সমীচীনও নয়। তাই পবিত্র কুরআনের গুরত্বপূর্ন ৩৪৬ টি আয়াত পড়ার ইচ্ছা থাকলে সাইটিতে একটু কষ্ট করে যান। সাইটটির ডান সাইটে কুরআনের আয়াতের একটি লিংক পাবেন। অনেকে ভাবতে পারেন কৌশল অবলম্বন করে আমি লিংক প্রচার করছি বস্তুত লিংক প্রচারের সঙ্গে এই পোষ্টের কোনই সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এই সাইটটি প্রচার করছি সুতরাং কুধারনা করা অনুচিত হবে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে ”তোমরা অপর ভাইয়ের প্রতি ধারণা করা হইতে বিরত থাক কারন তোমাদের অনেক ধারনাই মিথ্যা” আশা করি এই আয়াতের প্রতি ঈমানী শ্রদ্ধা রেখে ধারণা অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হইতে বিরত থাকবেন তাহলেই আমাদের মধ্যে সোহার্দ সমপ্রিতি বজায় থাকবে। আর যারা মানব সমাজে ইসলামের বানী প্রচার করে তাদের ক্ষেত্রে কি নীতি অবলম্বন করতে হবে সেই কথাও আল্লাহপাক বলে দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে ”যারা দ্বীন প্রচার প্রসারের কাজে সম্পৃক্ত থাকার ফলে কোন কাজ করার সময় পায়না তাদেরকে তোমরা সাহায্য কর” উক্ত আয়াতের শিক্ষা হল যারা দ্বীন প্রচারের কাজ করে তাদের বিরোধিতা করাত যাবেই না বরং তাদেরকে অর্থ দিয়ে সেটা না পারলে অন্ততপক্ষে প্রেরণা এবং পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বিষয়টি বুঝার তওফিক দান করুন। আপনি যদি সাড়া জীবন আনলিমিটেড সওয়াব বাসায় বসে ফ্রি পেতে চান তাহলে এই প্রবন্ধটি আপনার পরিচিতি মহলে শেয়ার করুন তারা আপনার প্রচার থেকে যত নেক আমল করবে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যত বংশধর যত নেক আমল করবে তার একটি অংশ আপনার আমলনামায় অটো আসতে থাকবে, এই বিষয়টি কুরআন হাদিস দ্ধারা প্রমানিত সত্য। অসম্ভব নয় যে কেয়ামতের ময়দানে এটাই আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের জন্য নাজাতের উসিলা হয়ে যেতে পারে।

বৃহত্তম ইসলামী জ্ঞানের আরন্যে পরিভ্রমন করুন প্রশান্তচিত্রে

http://www.islambd.org

পবিত্র কুরআনের অত্যান্ত গুরত্বপূর্ন ৩৪৬ টি আয়াত !
Tagged on:         

2 thoughts on “পবিত্র কুরআনের অত্যান্ত গুরত্বপূর্ন ৩৪৬ টি আয়াত !

  • September 26, 2012 at 11:42 am
    Permalink

    Islam dui prokarer. “Satya” abong “mithya”. Apnar moto lok mithya Islam ke mohan baniye dekhate chan. Je ayat gulir ullekh korechen, o guli ki Rosul nije manten? Islamer itihash abong Rosuer jiboni bhalo kore porun. Satya Islam nicher dewa ayat theke bujha jay. Keno bokar sworge achhen?

    Qur’an At Taubah 9.5: “But when the forbidden months are past, then fight and slay the Pagans wherever ye find them, an seize them, beleaguer them, and lie in wait for them in every stratagem (of war); but if they repent, and establish regular prayers and practise regular charity, then open the way for them: for Allah is Oft-forgiving, Most Merciful.”

    Ai ayat Allah-er pathano noy. Eta Rosul-er buli. Puro Quran-tai prodhanoto Rosul-er banano.

  • September 26, 2012 at 3:58 pm
    Permalink

    “যুগে যুগে অমুসলিম দার্শনিকগন পর্যন্ত একে এক মহাবিষ্ময়কর গ্রন্থরূপে অভিহিত করেছেন ! সুতরাং এর দ্ধারাই প্রমানিত হয় এই গ্রন্থে এক অদৃশ্য মহাশক্তি লুকায়িত। হাদিস শরিফে মহানবী এরশাদ করেন যে মুসলিম পবিত্র কুরআনের মাত্র একটি অক্ষর পড়ে তার আমলনামায় দশটি নেকি লিখা হয়ে যায় ! “— Ar juge juge je Quran-er biruddhe hazar hazar lok bolechhen abong likhechhen, tar hishab kothey? Ai neki je likha hoy, ta apni dekhechhen? Baje boken keno?
    “অমুসলিম সমপ্রদায়কে সতর্ক করার জন্য।”— Keno sotorko koben? Apnar ki ar kono kaj nai? Bhalo maanush hobar chestha korun. Nije bholo to duniya bhalo. Onyder-ke oder moto thakte din. Islam-er name oshanti chhoraben na.

Leave a Reply