এটা কি হলো? ইঙ্গিত আগে থেকে পাওয়া গেলেও এদেশে এসবের বিকল্প নেই, জেনে শুনে বিষ পান এখানে বাধ্যতামূলক। নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ মৃত্যু আমাদের অধিকার। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করে কে? যত গোজামিল, যত তাফালিং সব যেন হাপুস হুপুস মানচিত্র খায়। যাচ্ছে চলে আলো, কারো কারো অন্ধকারই লাগে সবচেয়ে ভাল কারন এর রংটি কাল। কাল টাকা, কাল রাত, কাল মেঘে কাল সাপ বেড়ে বেড়ে পাহাড় আজ, তার বাঁকা পথে সাদা সাদা মানুষগুলোর ভয়ংকর জীবন পাত। 

তারেক মাসুদ মস্ত বড় আলো। ব্যক্তি নয় সংগ্রাম, চিত্র মুক্তির পথ প্রদর্শক, দৃষ্টিভঙ্গীতে ঝাঁকুনি দেওয়া বিপ্লব, বিশ্বচেতনার সত্য পথ, গতিময় বাস্তবতা, শেষ রাতের স্বপ্ন, দেশ যদি হয় বাড়ি তবে তিনি উঠোনে বিশালাকায় নিমগাছ (শোধরায় বায়ুকে), জ্বল জ্বল করে ওঠা স্বচ্ছ বিজলি চমক, আরো কত কি যে…. অতৃপ্তই থেকে যায় উপমা।

চেনা চেনা মানুষগুলো হঠাৎ কোথায় লুকিয়ে যায়, আর বের হয় না, কেবল সমস্ত মগজ জুড়ে তাঁর আনাগোনা। না এটা স্বাভাবিক লুকানো নয়, অপমৃত্যু, অপঘাত, অকল্পনীয় অকস্যাৎ অঘটন, পিছিয়ে পিছিয়ে আর কোথায় গেলে আর পিছবেনা পা, জানা আছে কারো? হুমায়ূন আজাদ গেলেন, গেলেন তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর, চলে যেতে হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে। এ রকম উদাহরন দিতে গেলে শেষ হওয়া কঠিন।

এসব ঘটনায় কেউ কেউ বড় বড় বাণী ফরমাবেন, কেউ কেউ আত্মচিৎকার করে, হাউমাউ করে মাইক্রোফোনের সামনে চোখদুটোকে নায়াগ্রা বানাবেন, কোন কোন বিদেশি কম্পানি বাজাতে শুরু করবেন তাঁর অবদানমূলক কর্মবিষয়। আমাদেরকে শেখাবেন তিনি কে ছিলেন। প্লিজ, আমাদের এগুলো ভাল লাগে না, মায়ের চেয়ে মাসী বড় নয়, আমরা এখন শোকে বিহ্বল, মস্তিষ্ক কোন কাজ করছে না, থেমে গেছি আজ, রক্ত শীতল হচ্ছে, এসব কি হচ্ছে, কারা এমন করলো, আমরা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছি!

আগে জানা ছিল না, পত্রিকায় জানলাম। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৩ই আগস্ট, ২০১১। ১৯৯০ থেকে নাকি বিআরটিএ চার লক্ষ দশ হাজার চালক লাইসেন্স দিয়েছেন কোন ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই, আরো নাকি দেবার অপেক্ষায় চব্বিশ হাজার। লেখাটি পড়ার পরই খবরটা পেয়েছি, ভালই তো, পরীক্ষা ছাড়াই সিনেমা হলের টিকেটের মতো দিতে থাকুন লাইসেন্স, আর পুরো দেশ জুড়ে টুকরো টুকরো শরীরের বিভৎস ছিনেমা দেখুন রঙ্গীন পর্দায়। জনসংখ্যা কমানোর অন্য আর কোন পদ্ধতি লাগবে না, এমনিই জনশূণ্য হবে দেশে। মস্তকবিহীন শরীর দেখে কিছুদিন পরে আর চোখে জল আসবে না, সন্তান স্কুল থেকে ফিরে না এলেও হাসিমুখে সেদ্ধ চাল চিবিয়ে যাবেন, কাঁদবেন কেন? রক্তকে রঙ ভেবে ডিজে পার্টির মতো উল্লাস করবেন, কেমন? ধীরে ধীরে সয়ে যাবে সব, যদি না সয়, যদি এসবকে ভাগ্য বলে না মানেন তবে বিপ্লবী হোন, নইলে সব হবে শেষ চোখের পলকেই।

বড় বড় মানুষের গাড়ি চলার পথ, উপগ্রহ দিয়ে সনাক্তকরণ চলে মশা কিংবা মাছির উপদ্রব। আমরা পাখির মতো গাছের ডালে বসে বড় বড় সেই মানুষগুলোর ছোট ছোট গাড়ি দেখি, কাকতাড়ুয়ার মতো তাড়ানো হয় আমাদের। সেই মানুষগুলো হয়তো জানেও না এদেশে আরো মানুষ/প্রাণী/কীট আছে। দরকার তাদেরও নিরাপত্তা। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনটিও আজকালের নয়, সব কান্না এবার একসাথে কাঁদো। কে দিচ্ছে কাকে নিরাপত্তা, শিক্ষকের কাছে ছাত্রী, স্বামীর কাছে স্ত্রী, পিতার কাছে কন্যা সবই হযবরল। যারা সাধারন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর নিরাপত্তা দেয় তাদের নিরাপত্তা কবরে? খবরটা হতাশার।

গলে গলে যাচ্ছে মাংস, শরীরের লোমগুলো কিছুতেই শোয়ানো যাচ্ছে না, দুঃস্বপ্নের কঙ্কালরা দিচ্ছে হাততালি আর বুকধরফরানিই কি আমাদের মৌলিক অধিকার? নাকি আমরাও ছোট ছোট মানুষ!

তারেক মাসুদ – চলে যাওয়া সহ্য হচ্ছে না…..

2 thoughts on “তারেক মাসুদ – চলে যাওয়া সহ্য হচ্ছে না…..

  • Profile photo of leena
    August 15, 2011 at 4:24 pm
    Permalink

    যাদের হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব এই হচ্ছে তাদের বক্তব্য ঃ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-14/news/178124
    অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুই একটি স্বাভাবিক পরিণতি এবং জনগণের কাছে সরকারের মৌলিক দাবী ! !!!

  • Profile photo of rinku
    September 24, 2011 at 5:53 pm
    Permalink

    One of our cabinet told that Tareq Masud’s deat is not abnormal date, because his destiny was untill the time of his date, he also said there is no abnormal death in the world (source: Column,Anisul haq, Prothom Alo). What a surprising speech ! I personally believe that there is nowhere in the world except bangladesh where one can say this type of absurd / ridiculous word. This is also true for giving licence without test. As far as I know No country gives licence to people except test but bangladesh. What is it !

    Khapa Vai Apnar lekhata valo laglo

    Ruhul/ Rinku
    England

Leave a Reply