ভেবেছিলাম ব্লগে অনেক লিখালিখি করব। কিন্তু যখনই নিবন্ধন করলাম তখনি চাকুরী হল আর বাড়ল ব্যস্ততা। তবুও সময় পেলে ব্লগে আসা। তবে লিখা আর হয় না। আজ আমার পুথিয়া-য় ২ পর্বের একটা ভাল লেখা পেলাম তাই শেয়ার করলাম।

এই লেখাটা অবুঝ বালক নামের একজনের নোট। আমার ভাল লেগেছে তাই শেয়ার করলাম দুই পর্বে; কারন একপর্বে দিলে হয়তো অনেকেই পড়তে চাইবে না অনেক বড় বলে।

মানুষকে কিছু বলতে যাওয়ার আগে সেই মানুষটাকে নিয়ে চিন্তা করা উচিত। মানুষটাকে বোঝা উচিত। ধারনা করা উচিত সে কি ভাবছে আর আমার কথাগুলু সে কিভাবে নিতে পারে। আমার দ্বীনই ভাইয়েরা ফেসবুকে, মাঠে ঘাটে মাসাআল্লাহ সুন্দর দাওয়া দেন। আল্লাহ আপনাদের এই কাজের উত্তম প্রতিদান দান করবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আমার মনে কিছু কথা অনেকদিন থেকেই ঘুরছে।অনেক আগে থেকে। আচ্ছা আমরা কি কখনো বাঙ্গালী মুসলিমের দ্বিমুখী আবেগ নিয়ে ভেবেছি?? ভেবেছি কেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া একটা ছেলে মিলার কন্সার্টে উন্মাদ হয়?? ভেবেছি কেন হিজাব করা একটা মেয়ে সাইবার ক্যাফেতে খাটাশের সাথে চুম্মাচুম্মি করে??(এই বঙ্গদেশে গায়ে কোনমতে জড়িয়ে রাখা বুরখাকে আমরা আবেগের বশে হিজাব বলে ডাকি!!) কেন রাস্তায় অসংখ্য মানুষের সামনে ইয় ইয় বান্ধবিদের সাথে বৃষ্টি বিলাস করে??

(বিঃদ্রঃ চুম্মাচুম্মি আর বৃষ্টি বিলাস দুইটাই নিজ চোখে দেখার অভিজ্ঞতার দলিল আমার আছে। আজকাল কিছু বললেই মানুষ দলিল খোঁজে!!)

কখনো কি ভেবেছি ভাই?? কখনো কি এই প্রশ্নগুলুর উত্তর খুঁজেছি??

ঈদ করতে শহর থেকে বাসে করে গ্রামে যাচ্ছিলাম। আমার সাথে পরিচিত এক বড় ভাই ছিল। উনি বাসের কিছু যাত্রীদের সাথে আরাকানের রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তারা সবাই আত্মবিশ্বাসের সাথে একমত হল যে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজটা করেছে রোহিঙ্গাদের এদেশে স্থান না দিয়ে!! আমরা এমনিতেই রোহিঙ্গাদের জ্বালায় বাঁচিনা! রোহিঙ্গারা এমন। রোহিঙ্গারা তেমন ব্লা ব্লা ব্লা!কিছুক্ষন পর ওই ভাই তার ফেসবুকের হোমপেজ থেকে এক রোহিঙ্গাকে কুপিয়ে ক্ষত বিক্ষত করা লাশের ছবি দেখালেন। সেখানে আল্লাহ তুমি রহমতের হাত দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা কর এইরকম একটা আবেগি কথাও ছিল। ওই বড় ভাই চোখে মুখে চিকচিক করা আবেগ নিয়ে চাচ্ছিলেন ছবিটা দেখে আমি আহা! উহ! টাইপ দুয়েকটা আবেগের কথা বলি। চাইলেই কথার ঝনঝনানিতে তার আহা! উহ! করা বাঁকা মুখটা ভোঁতা করে দিতে পারতাম। কিন্তু করিনি তার দ্বিমুখী আবেগটা বুঝতে পেরেছিলাম বলে। এই আবেগ কথার ঝনঝনানিতে নয় কাঁধে হাত রেখে ভালোবেসে পরিবর্তন করতে হয়। সেই সুযোগটা তখন ছিলনা।

রমজানে এক রাতে নামাজ পড়ে রাস্তায় হাঁটছিলাম। হটাত একটা ছাগলের অসহ্য চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলাম। ছাগলতা কারেন্টে শক লেগে মূমুর্ষ অবস্থায় চলে গিয়েছিল! ছাগলের মালিক ছাগলটাকে সন্তান কোলে নেওার মতো করে বসে ছিল। কিছুই করতে পারছিলনা বলে তার খুব খারাপ লাগছিল। এই খারাপ লাগায় ছাগলের চার পাঁচ হাজার টাকা দামের সাথে ছাগলটার প্রতি ভালবাসা ছিল, মানবতা ছিল! অবশ্যই ছিল। ঘরে বিষাক্ত সাপ নিয়ে থাকলে তার উপরও মায়া জমে আর ছাগলের উপর জমবে না?? কিন্তু আমাদের মুসলিমদের কোন মায়া জমেনা! ছাগলের জন্য জমানো আবেগটাও জমে না ফিলিস্তিন, আফগানিস্থান, সিরিয়া, আরাকানের মুসলিম ভাইবোনদের জন্য! সন্তান হারিয়ে বুকফাটা কান্না করা মায়েদের জন্য! মজলুমের আর্তনাদে গর্জে উঠার আবেগ আমরা বিসর্জন দিয়েছি জাতীয়তাবাদের মিথ্যে আবেগের কাছে। আমাদের সব আবেগ এখন সাকিব আল হাসানের জন্য। আমাদের সমস্ত দোয়া টিশার্টের পেছনে “extend your hands for shakib” লেখায় ফুরিয়ে গেছে!amazing! যে মুসলিম সবে কদরের রাতে কান্নাকাটি করে সেই একই মুসলিম ক্রিকেট দল হারলে কেঁদে বুক ভাসায়! যে মুসলিম মিলাদে আশেকে রাসুল (সঃ) সাজে সে রাসুল (সঃ) এর সোম- বৃহস্পতি রোজা রাখা, টাঁকনর উপর প্যান্ট, নামাজে পায়ের গোড়ালি, কাঁধ লাগিয়ে দাঁড়ানোর মতো শক্ত সুন্নাহ নিতে পারেনা। কেউ নিলে তার পেছনে লাগে। গোমরাহ, জঙ্গি ট্যাগ লাগায়!বাঙ্গালি মুসলিমের আবেগ আটকে আছে আমেরিকা ইসরায়েলের প্রতি আহমেদই নেজাতের গরম গরম হুঁশিয়ারিতে! গাছে, মাছে, আকাশে, মাংসের টুকরায় আল্লাহ লেখা ছবির আপলোডে! আমরা আটকে গেছি! আটকে গেছি আবেগে!

ওইদিন গ্রামের বাড়ীতে গিয়েই জানলাম সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। সকালে যাওয়া সেই বিদ্যুৎ বাবাজির আসার সময় হয়েছিল রাত বারোটার পরে। দাবি আদায়ের, অধিকারের কথা বলার যতো হাতিয়ার, যতো কথার ফচফচানি, যতো ফাটা বাশের মতো বজ্রকন্ঠ সব শহরের যান্ত্রিক মানুষগুলুর! কারন তাদের প্রেস ক্লাব আছে, শহীদ মিনার আছে, পত্রিকার পাতায় উঠার জন্য উন্মাদ মিডিয়ার ক্যামেরার ক্রিজ ক্রিজ আওয়াজ আছে, আর আছে গভীর রাতে ছাগলের বাচ্চা পয়দা হওয়ার মতো পয়দা হওয়া টিভি চ্যানেলের টক শো!! গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলুর তার কিছুই নেই তাই তাদের কথা শোনারও দরকার পড়েনা। কারন আমাদের কর্তাব্যক্তিরা জানে গদি ছাড়ার আগে আগে এই মানুষগুলুর আবেগ জলের দরে কিনতে পাওয়া যায়! হে! আবেগ কিনতে পাওয়া যায়!স্কুলে পড়ার সময় এলাকার এমপি মহোদয় এসেছিলেন। আমরা উনাকে বরণ করার জন্য পুরা স্কুলের বারান্দায় সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যারা উনার হাত ছুঁতে পেরেছিল তারা হাতে চাঁদ পাওয়ার আনন্দ নিয়ে বাড়ী গিয়েছিল। অনেকদিন সেই শিহরিত অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছিল আমার মতো হাত ছুঁতে না পারা দুরভাগাদের!আমাদের প্রিয় হেডস্যার একবুক আশা নিয়ে এমপি মহোদয়কে স্খুলের ফাটা ভবনটার কথা জানিয়েছিলেন!এমপি মহোদয় দিয়েছিলেন একবুক আশ্বাস! আমাদের স্কুলের মতো এতো ঐতিহ্যবাহী স্কুল আশে পাশে আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।( এটা ইগোও হতে পারে!) আশ্বাসের কারনে হোক আর ঐতিহ্যের লুঙ্গিতে গিট দেওয়ার জন্যই হোক দুইটা ক্লাসরুমের একটা ভবন সেই সরকারের আমলে হয়েছিল যা প্রয়োজনের তুলনায় সরিষা দানা ছাড়া কিছুই নয়!কিন্তু এই লেখাটা লেখার সময় সময়টা খেয়াল করে দেখলাম সময়টা ছিল গদি ছাড়ার শেষের দিকে। মানুষের আবেগ কেনার ভরা মৌসুম! আবেগ কেনাও গিয়েছিল সস্তা দামে! তাই বর্তমান সরকার ছলে বলে কৌশলে(বৈধ না অবৈধ বিতর্ক আছে!) সারা বাংলাদেশ পকেটে ভরলেও আমাদের এলাকার মানুষের আবেগ কিনতে পারেনি। সেই আবেগ যে অনেক আগেই চিরস্থায়ীভাবে বিক্রি হয়ে গেছে!( ওই সময়ে কোন সরকারের কোন এমপি ছিল, আমাদের এলাকার নাম জানতে খুব বেশি ইচ্ছুক হলে বিজ্ঞাপন দিয়েন। বিজ্ঞাপন দেখে আমি যোগাযোগ করব!এখানে উল্লেক করে সারাবছর গায়ে চুলাকানি থাকা মানুষগুলুর ঘেও ঘেও জাতীয় অদ্ভুদ সাউন্ড শুনতে চাইনা!)

কিন্তু আমার বুক হু হু করা আবেগের স্কুলের ফাটা ভবনটা এখনো আগের মতই আছে। এখনো আমার রেখে আসা জুনিয়র ভাইবোনগুলু মাথার উপর তাকিয়ে ফাটা ছাদ দেখে আতঙ্গিত হয়! তারপরও তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেনা, ক্লাসরুমে ছোটাছোটি বন্ধ করেনা! একবুক শিহরণ, দস্যিপনা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার আবেগের কাছে ফাটা ছাদের আতংক কিছুই নয়!আমরা আবেগি বাঙ্গালী, আবেগি মুসলিম! আবেগ ছাড়া কিছুই বুঝিনা!

আমার এই কথাগুলুতে হয়তো সবার সাপোর্ট নেই সেটা আমি আশাও করিনা তারপরও আমি মনে করি এই আবেগি মুসলিমদের হাতে ইসলাম তুলে দেওয়ার আগে তাদের এই দ্বিমুখী আবেগটা পরিবর্তন করতে হবে। না হলে তাদের কাছে ইসলামকে গ্রহণযোগ্য করা অনেক কঠিন হবে। আর ইসলাম জোর করে বা তুই আমাকে মাংস দিলে আমি তুকে মাছ দেব শর্তে আসেনি! মানুষের জন্য ইসলাম দরকার সেই বোধটা, মনের জোরটা মানুষের ভেতর থেকেই এসেছে! স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে! ব্ল্যাকমেইল করে মানুষের আবেগ কেনার দরকার পড়েনি। কিন্তু এখন পড়ছে। সেই আবেগে ইসলাম নেই বলেই পড়ছে!মুসলিমরা আটকা পড়ে গেছে! কেউ আটকা পড়েছে আবেগের বৃত্তে আর কেউ সেই আবেগটা পরিবর্তন না করেই যেকোন মুল্যে আবেগটা কেনার বৃত্তে!কিনে কতদিন ধরে রাখতে পারবি সেই আবেগ?? কতদিন?? একদিন আবেগ বিদ্রোহ করবে! ইসলামবিহীন আবেগ ইসলামেরই বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে! এই আবেগ পরিবর্তন করতে না পারলে আমাদের বাড়ীর মেয়েরা প্রতিদিনের মতই নামাজ পড়ে জায়নামাজটা তুলে রেখেই হা করে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে বসবে!( সিরিয়ালে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছে! তালাক যাতে না হয় সেজন্য আমাদের “দ্বীনদার” বাঙ্গালী মহিলা রোজা রেখেছেন এমন উদাহরণও আছে!! আহা মুসলিম! আহা আবেগ!)। যুগ যুগ ধরে আবেগি মুসলিম ঠিকই ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করে বাকিদিন নাক ডেকে ঘুমাবে!বাপ দাদার রেখে যাওয়া এই রীতির আবেগে কতো বাঙ্গালী মুসলিমই হয়তো শবে কদরের রাতে নাক ডেকে ঘুমায়!আহা আবেগ! আহা দুর্ভাগা বাঙ্গালী! এই আবগের প্রশ্রয়ে তরুন ছেলেরা নামাজ পড়ে এসে টুপি রেখে “জীবনমুখী বাস্তবতার গান” আর “সামাজিক” ছবি দেখতে বসবে!বন্ধুদের সাথে রাস্তায় মেয়ে দেখে “ক্যায়া *** হ্যায়” মন্তব্যে আত্মতৃপ্তি খুঁজবে!! আবেগ এমনই! একদিকে সুন্দর… আবার তীব্র ভয়ংকর! ইসলাম আর এই দ্বিমুখী আবেগ কখনো একসাথে যায়না! যেতে পারেনা!

যতদিন আমাকে কেউ আমার এই চিন্তাগুলু ভুল প্রমান করে কোন সমাধান দিতে পারবেনা ততদিন আমি বাঙ্গালী মুসলিমের এই আবেগ নিয়ে ভাববো! কাউকে ইসলামের দুইটা কথা বলার আগে তার আবেগটা বুঝব। অসুস্থ আবেগ হলে কয়েকফোটা ড্রপ দেব! কিন্তু তুই এটা না করলে এমন হবে, এটা করলে জাহান্নামে যাবি টাইপ “হালাল হারামের” গরম গরম এনটিভায়োটিক দেবনা। ছলে বলে কৌশলে আবেগ কিনতে গিয়ে আমি তার ইসলাম বুঝতে চাওয়ার নুন্যতম আবেগটুকু হারাতে চাইনা!আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন…

“ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম(হে আল্লাহ আমাদের সহজ সরল পথ দেখাও)”… (সুরা ফাতেহাঃ৬)

আবেগ VS ইসলাম বৃত্তে আটকা পড়া মুসলিম! পর্ব-১

One thought on “আবেগ VS ইসলাম বৃত্তে আটকা পড়া মুসলিম! পর্ব-১

  • Profile photo of Maanush
    March 12, 2013 at 6:23 pm
    Permalink

    This divergent expression of emotion is quite natural because of the divergent nature of Begalee heritage and Arabic heritage. Bangladeshi Muslims have the genetic stock of eastern part of Indian sub-continent. The genetic stock of propagators of Islam was very different.

    When Islam is taken as complete way of life it comes in direct clash with Bengali culture. Bangladeshis are too proud of their Bengali heritage. Otherwise their language would have been Arabic like non-Arab Islamic countries of Middle East Asia. Even the names Bangladeshi youths also contain some non-Arabic/non-Persian Bengali name today.

    In this cyber age, the urban Muslim youths of Bangladesh are torn between free western thoughts and regimented Islamic teachings.

    The situation of poor rural people of Bangladesh is same as that of any other developing country. No religion or political leader cares for them. Islam has nothing to do with this. Poor people are ‘Gulums’ and politician and rich people are ‘Badshas’. The picture has been same through out the history.

    Do you think that five hundred years back any poor Bengalee (irrespective of religion) was conscious about the religion of his ruler? Certainly not; as that was irrelevant to him. By the way, I am not any ‘Commi’. But I believe that all the religions have used common people for serving the vested interests of leaders of respective religion. Religion is no better than food chain.

    Therefore this dichotomy in emotional expression needs to be accepted and reconciled with.

Leave a Reply