প্রায় মাসখানেক হয়ে গেল কোন কিছু লিখতে পারি না। ঈদের আগে শেষ কিছু লিখেছি, মাঝখানে সপ্তাহখানিকের গ্যাপ ছিল। তারপর থেকে আর কিছু লিখতে পারছি না। লেখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারছি না। প্রতিদিন ভাবি আজ কিছু লিখবোই, কিন্তু শুরুটাই করতে পারি না। শুরুর আগেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। এটাকেই সম্ভবত রাইটার্স ব্লক বলে, কই যেন এমন পড়েছিলাম, ওখানে এ অবস্হা থেকে পরিত্রাণের কিছু নির্দেশনাও ছিল। আমার ক্ষেত্রে কোনটাই কোন কাজে আসছে না। কোনও কাজও করছি না, দিনরাত ঘুমাই, খাই আর সিনেমা দেখি। বড়ই পেরেশানের মধ্যে আছি।

আমার চারটা ব্লগ আছে, তিনটাই ইংরেজি, একটা বাংলা। রেগুলার কিছু না কিছু লিখে আপডেট রাখা খুব জরুরী, কারন এই ব্লগগুলোই বর্তমানে আমার ইনকামের উৎস। একমাস হাত গুটিয়ে থাকায় ইনকাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই এই সকালবেলা অনেক কষ্টে মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লেখা শুরু করলাম। কিছু লিখতে হবে তাই লেখা, উদ্দেশ্যহীন লেখা। একটা অসস্তিকর অবস্হা থেকে পরিত্রাণের জন্য লেখা।

কিছুটা হলেও মনে হয় কাজে দিচ্ছে আমার এই টেকনিক। এই লেখাটার প্রথম কয়টা লাইন লিখতে বেশ কষ্ট হয়েছে, কিন্তু এখন মুটামুটি সাবলীলভাবে লিখতে পারছি, বেশ ভালও লাগছে। আশা করি আজ থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে, নিয়মিত লিখতে পারবো।

এই ব্যাপারটা মনে হয় সবারই হয়, শুধু লেখালেখির ক্ষেত্রে না, সবকিছুতেই। পড়ালেখা, খেলাধুলা বা অন্য যেকোন কাজেও কিছু সময় এমন যায়। যাদের নিজের উপর কন্ট্রোল বেশি তারা খুব দ্রুতই এ অবস্হা থেকে মুক্তি পায়, আর যাদের মনের জোড় কম তারা সহজে স্বাভাবিক অবস্হায় ফিরতে পারেন না। অনেক সময় ঐ কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেন। আশা করি আমার ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। যেহেতু শুরু করতে পেরেছি, সেহেতু আর কোন সমস্যা হবে না আশা করি। নিজের উপর পুরোপুরি না থাকলেও কিছুটা কন্ট্রোল তো অবশ্যই আছে। আর আমি বেশিরভাগ সময় মনের উপর কন্ট্রোল করার চেষ্টা করি না, যখন যা চায় করতে দিই, অনেক সময় সীমা অতিক্রম করে ফেলি এবং ব্যাপারটা ইনজয়ও করি। তাই বলে সবসময় এমন করি তা ঠিক না, এই এখন যেমন মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করলাম। আমি এটাও জানি দুএকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারটাতেও মজা পেয়ে যাব, তখন আর মনের উপর জোর খাটাতে হবে না, লিখে বরং আনন্দ পাব। বিদায় রাইটার্স ব্লক।

এটাকে কি রাইটার্স ব্লক বলে!

Leave a Reply