“আমার বাবা কই? মৃত্যু মৃত্যু খেলতে খেলতেই তুমি হারিয়ে যাবে নাকি। বাবা তোমার চঞ্চল হাসি নিয়ে ফিরে এসো। তোমার প্যারিস তোমাকে ডাকছে”। মাইকলে জ্যাকসন মারা যাননি। তিনি মারা যাওয়ার ভান করছেন। এর আগেও সন্তানদের মজা দেয়ার জন্য সন্তানের সঙ্গে মারা যাওয়ার অনেক অভিনয় করেছেন। এবারও পুত্র প্রিন্স মাইকেল (১২) প্রিন্স মাইকলে দ্বিতীয় (৬) এবং মেয়ে প্যারিস (১১) তেমনটিই ধরে নিয়েছিল।তাদের বিশ্বাস এরপরই তিনি লাফ দিয়ে উঁঠে দাঁড়াবেন। চমকে দেবেন সবাইকে । কিন্তু ততক্ষণে জরুরী বিভাগের গাড়ি এসে হাজির। এম্বুলেন্সের সাইরেন বাঁজছে সুতীব্র চিৎকারে। চিকিৎসকরা পড়ি মরি করে সিড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছেন মাইকেল জ্যাকসনের শয়নকক্ষে। তার মুখে অক্সিজেনের মাস্ক পরিয়ে বাসা থেকে বের করে নেয়া হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে বুঝতে বাকি থাকে না তাদের আদরের পিতা পৃথিবীর কোটি কেটি সংগীত প্রেমীর ভালবাসা মাইকেল জ্যাকসেন এবার কৌতুক করছেন না। নিশ্চয়ই তার বড় কিছু হয়েছে। আর ধৈর্য্য রাখতে পারে না প্রিয় কন্যা প্যারিস। আমার বাবা কই? তার এ বুক ফাটা আর্তনাদ, গগনবিদায়ী চিৎকার লসঅ্যাঞ্জলসের ক্যারলউড ড্রাইভের বাড়িটি যেন কেঁপে উঠে। কিছুতেই থেমে থাকে না সে কান্না। তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদে দু’ভাই। তাদের কান্নায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে বাতাসের আনাগোনা । গাছের পাতা স্থির হয়ে যায়। এ দৃশ্যে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন চিকিৎসকরা। তারা এক পর্যায়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ হয়ে পড়েন। সান্তনার ভাষা হারিয়ে ফেলেন তারা। অপেক্ষামান গাঁড়ির কাছে গ্লাসে হুমড়ি খেয়ে কাঁদতে থাকে মেয়ে প্যারিস-আমার বাবা কই? মৃত্যু মৃত্যু খেলতে খেলতেই তুমি হারিয়ে যাবে নাকি। বাবা তোমার চঞ্চল হাসি নিয়ে ফিরে এসো। বাবা তুমি লাফিয়ে উঠে আমাদেরকে চমকে দাও, বাবা তুমি ফিরে এসো, তোমার প্যারিস তোমাকে ডাকছে। যখন তার মৃত দেহটাকে হাসপাতালের অপারেশন টিয়েটারে ডোকানো হলো  হচ্ছিল, তখনও সন্তানদের বিশ্বাস তাদের প্রিয় পিতা মাইকেল জ্যাকসন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবেন হাসতে হাসতে। তার মুখে থাকবে বিখ্যাত সেই গান ‘দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস’ কিন্তু না সব স্বপ্ন, সমস্ত ভালবাসাকে পেছনে ফেলে সত্যি-সত্যি ওপারে চলে গেছেন মাইকেল জ্যাকসন। এখন তার যশ, খ্যাতি, ভালবাসা ইতিহাসের বিরাট একটি অধ্যায়ে জীবিত সন্তান আর প্রেমিকদের হৃদয়ে।
* মাইকেল জ্যাকসনের বিদায় ঃ
বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিনোদন তারকার সিংহাসনে আসীন পপ সঙ্গীতের মুকুটহীন স¤্রাট মাইকেল জ্যাকসনের আকস্মিক তিরোধান শোকহত করেছে গোটা দুনিয়াকে। তার মৃত্যুতে শোকের এই ব্যাপকতা মাইকেল জ্যাকসনের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার প্রমান বহন করে। গত ২৬ ই জুন ০৯ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় অপরাহৃ ২ টা ২৬ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলসের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গুরুতর হৃদরোগে  আক্রান্ত হয়ে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ত্বকের ক্যান্সারে ভূগছিলেন । এ জন্য কয়েকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। ক্যান্সার ঠেকাতে তার নাক কেটে বাদ দিয়ে সেখানে একটি কৃত্রিম নাক বসিয়ে দেয়। কিন্তু ডাক্তারদের সিন্ধান্ত ছিল যে, ত্বকের ক্যান্সারের কারণে তার আশু মৃত্যুর আশংকা নেই। ক্যান্সারের কাছে তিনি পরাজিত হননি। বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন দেড়শ বছর। তাইতো পাঁচ/ ছয় বছর আগে থেকে অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমাতেন। জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জুলাইতে লন্ডনে দুনিয়া কাঁপানো অনুষ্ঠান করার জন্য। নিয়তি হয়তো নীরবে হেসেছিল। হৃদপিন্ড বিকল হয়ে তার জীবন থামিয়ে দিল অকালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে।
* মাইকেলের জন্ম ঃ
১৯৫৮ সালের ২৯ আগষ্ট ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গেরিতে জন্ম নেন বিশ্ব বিখ্যাত পপ স¤্রাট মাইকেল জ্যাকসন। তার পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। বাবা মা’র ৯ সন্তানের মধ্যে তিনি সপ্তম।
* সর্বকালের সেরা গায়ক ঃ
মাত্র ৬ বছর বয়সে চার ভাই জেকি, টিটো, জেরিমিন ও মার্লোনের সঙ্গে মিলে প্রথম একটি ট্যালেন্ট শোতে গান গেয়ে প্রথম পুরস্কার পান তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। জ্যাকসনের ভাইদের দলটি প্রথম থেকেই পপ সঙ্গীতের জগতে আলোড়ন তুলেছিল। ১৯৭১ সাল থেকে মাইকেল একক শিল্পী হিসাবে গান গাইতে শুরু করেন। তার গাওয়া গানের ৫টি অ্যালবাম বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবামের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে-অব দ্য ওয়াল, থ্রিলার, ব্যাড, ডেঞ্জারাস ও হিস্ট্রি। স্টেজ পারফর্মার হিসাবে মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন অতুলনীয়। তার গান শুরু সঙ্গে সঙ্গে দর্শককুল উন্মাতার নৃত্য শুরু করে দিত। এক অনন্য নাচের ভঙ্গি ‘মুনওয়াক’ ছিল তার অসাধারণ উদ্ভাবক। মনে হতো স্টেজে ভেসে বেড়াচ্ছেন। খ্যাতি এবং বিতর্ক ছিল মাইকেল জীবনের আজীবন সঙ্গী। ৫০ বছরের জীবনে প্রায় ৪০ বছর বিশ্বব্যাপী খ্যাতির শীর্ষে থাকতে পারা এক অসাধারণ সাফল্য। শুধু গান গেয়ে তিনি শত কোটি ডলার কামিয়েছেন। অনেক পপ শিল্পীর জন্ম হয়েছে কিন্তু তার মতো বৈশিষ্ট্য বা জনপ্রিয়তা কেউ কখনো পাননি। সেজন্য তিনি চিরকালের গায়ক। মাইকেল জ্যাকসন বেশ ক’বার গিনেস ওয়াল্ড রেকর্ডে  জায়গা করে নিয়েছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গায়ক হিসাবে ১৩ বার গ্রামি অ্যাওয়ার্ড লাভ এবং ১৩ বার পুরুষ শিল্পী হিসাবে টপচার্টে তাঁর গান ১ নম্বরে ছিল।
* ইসলাম গ্রহন ঃ
২০০৩ ও ২০০৫ সালে যখন তিনি শিশুদের যৌন নির্যাতনের জন্য বিভিন্ন মামলার সম্মূখিন হন, সেগুলো আদালতের মাধ্যমে সমাধান করে, তিনি নির্জনে চলে গেলেন। একাকী সময় কাটানোর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে গমন করেন। বাহরাইনের যুব রাজের রাজকীয় মেহমান হিসাবে তিনি এক বছর অবস্থান করেন। সেখানেই ইসলাম সম্পর্কে জানেন একং ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন। অনেকের মতে, সেখানেই তিনি ইসলাম গ্রহন করেন। কিন্তু বিতর্কের আশায় তিনি তা গোপন রাখেন। আরেক বর্ণনায় দেখা যায়-তার বড় ভাই ইসলাম গ্রহনের পর তারই অনুপ্রেরনায় মাইকেল ইসলাম গ্রহন করেন। পরবর্তীতে বিবেকের তাড়নায় ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন ঈমামের উপস্থিতিতে ইসলাম গ্রহনের ঘোষনা দেন। মাইকেল জ্যাকসন থেকে পরিণত হন মিকাঈলে।
* জনপ্রিয়তার শীর্ষে ঃ
মাইকেল জ্যাকসন জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। তাইতো তার মৃত্যু পৃথিবীব্যাপী আরোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গবেষনা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইকেলের মৃত্যু একুশ শতকের অন্যতম প্রধান ঘটনা। তার মৃত্যুর খবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনের চেয়ে পাঁচগুন বেশি কবারেজ পেয়েছে বিশ্ব মিডিয়ায়। এমনকি শুরু ইরাক যুদ্ধের চেয়ে দ্বিগুন কবারেজ পেয়েছে ঘটনাটি। গ্লোাবাল ল্যাঙ্গুয়েজ মনিটর বা জিএলএম নামের একটি গবেষনা সংস্থার জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়-সারা বিশ্বের মূলধারার গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট মিডিয়ায় জরিপ অনুযায়ী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু একুশ শতকের অন্যতম শীর্ষ ঘটনায় পরিনত হয়েছে। জিএলএস এক জরিপে জানায়-মৃত্যুর ৭২ ঘন্টা পরও ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মাইকেলের অবস্থান ৯ নম্বরে। অপর দিকে ইন্টানেট ব্লক এবং স্যোশাল মিড়িয়ায় তার এই অবস্থান ২ নম্বরে। যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গেই তুলনীয়। তার মৃত্যুতে ওয়েবের গতি পর্যন্ত শ্লথ হয়ে পড়ে। গুগলের মুখমাত্র গ্যা ত্রিয়েল স্টাই কার জানান-লাখ লাখ মানুষ গুগল নিউজে মাইকেল সম্পর্কে জানার জন্য বিভিন্ন ধরণের সার্চ দিচ্ছিল কিন্তু কাঙ্খিত ফল পাচ্ছিল না। মাইকেলে মৃত্যুর পর বিবিসি নিউজ সাইটে যে জট লাগে তা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি। লোকজনের চাপে মাইক্রো ব্লগিং সেবা টুইটার একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। শুধু ইয়াহু সাইটে ঢু মারে এক কোটি ৬৪ লাখ নেট ব্যবহার কারী। এটা একটা রেকর্ড। এছাড়া গুগল নিউজ সাইটেও এত লোক গুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন যে প্রথমে ভেবেছিল তারা বুঝি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য ১৭৫০০ সিটের জন্য ৫০ কোটি আবেদন জমা পড়ে। তার শোকে আত্মহত্যা করে ৩০ অধিক ভক্ত।
* মাইকেলকে নিয়ে সা¤্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ঃ
জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেও সা¤্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি মাইকেল জ্যাকসন। তার ইসলাম গ্রহনের খবর কখনো মিডিয়ায় প্রকাশ করতে দেয়নি সা¤্রাজ্যবাদী চক্র। তার লিখিত উইলে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী দাপন কাফনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় সেটাও প্রকাশ করতে তেমন দেখা যায়নি। তার দাফন কাফনের ব্যাপারে, জানাযার ব্যাপারে কোন কিছুই প্রচার করতে দেইনি সা¤্রাজ্যবাদী চক্র। মার্কিন ও ইহুদী লবিদের কারণে তার ইসলাম গ্রহন ও উইলে বর্ণিত দাফন কাফনের ব্যাপারে কোন কিছু করা সম্ভব হয়নি বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে। কারণ তার অসিয়ত অনুযায়ী দাফন কাফন হলে সারা পৃথিবীতে তা আলোড়ন সৃষ্টি করতো এবং মুসলিম বিশ্বে ও মুসলমানদের জন্য তা ইতিবাচক হতো। তার এ ইসলাম গ্রহনের ঘটনা তার কোটি কোটি ভক্তদেরকেও ইসলাম গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করতো তাই সা¤্রাজ্যবাদীরা এ ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিল।
* মাইকেল জ্যাকসনের করুন পরিণতি ঃ
জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেও তার জীবনকে করুন পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারেননি মাইকেল। খেয়ালী জীবন যাপন, প্লাস্টিক সার্জারি, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং মাদকের সর্বনাশা ছোবলে মাইকেলকে করুণ পরিণতি বরন করতে হলো। তার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তে দেখা যায়-তার পাকস্থলীতে ঔষুষ ছাড়া কোন খাদ্য দ্রব্য পাওয়া যায়ানি। শরীর বলতে তার কিছুই ছিল না। জীবন্ত কংকালে পরিণত হয়েছেন তিনি। নামে মাত্র দিনে একবার খাবার খেতেন তিনি। ওজন পঞ্চাশ কিলোর নীচে নেমে আস্ েসারা শরীরে অজস্র সূচের দাগ। খেয়ালী জীবন ও মাদকাসক্তের কারণে মাসে ৫০ হাজার ডলার ঔষুধের পেছনে ব্যয় করতে হতো। ঋনের বোঝা দাঁড়ালো ৪০-৫০ কোটি ডলারে। মৃত্যুর আগে বাধ্য হয়ে শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও ঋনের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি লন্ডনে কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু নিয়তিই তাকে আর সামনে এগুতো দেয়নি। তাই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে তার এ করুন পরিণতি থেকে পৃথিবীবাসীর শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলেই পৃথিবী সত্য ও সুন্দরের পথে এগিয়ে যাবে।
* সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অবস্থা ঃ
সারা পৃথিবীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গুলো খেয়ালী জীবন যাপন, অবাধ যৌনাচার ও ভয়ংকর মাদকের কারণে ধ্বংসের কবলে পতিত হচ্ছে। বর্তমান হলিউড, বলিউড থেকে শুরু করে ঢালিউড পর্যন্ত সকল সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ এ তিন প্রকার মহামারীতে আক্রান্ত। যার কারণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেও কেউ তার শেষ পরিণতি রুখতে পারে না। তাইতো মাইকেল জ্যাকসনের এ করুন পরিণতি থেকে সাংস্কৃতিক জগৎ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদেরকে শিক্ষা নিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক জগৎ ও বিশ্ব বিনির্মানে এগিয়ে আসা জরুরী। কারণ পাপ বাপকেও ছাড়ে না। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এ সমস্ত মহামারীতে আক্রান্ত যুব সমাজের শিক্ষা নেওয়ার। মাইকেলের করুন পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহন করে পরিশুদ্ধ জীবন গঠন করুন এবং পৃথিবীকে পরিশুদ্ধ রুপে গড়ে তুলুন। কারণ তারকাদের কে ভক্তরা অন্ধভাবে অনুসরণ করে। তাই তারকাদের সকল ধরণের পাপাচার ও অনাচার থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা প্রয়োজন। নিজের স্বার্থে না হলেও ভক্তদের স্বার্থে। তাই আজকে যারা পপ সঙ্গীতের নামে উন্মাত নাচানাচি, উদ্যাম নৃত্য আর উশৃঙ্খল আচরণ করেন তাদের মাইকেলের করুন পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এসব ভন্ডামী বন্ধ করা দরকার। গানের নামে প্রেম ভালবাসা, অশ্লীল কথা বার্তা বন্ধ করে ,গানের মাধ্যমে মানবতার দুঃখ কষ্ট তুলে ধরা, দেশের সমস্যা ও সম্ভবনার কথা তুলে ধরা, ভাল কথা ফুলযুরি ছড়ানো, পৃথিবীতে আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্রতা তুলে ধরা, মানবতা ও মনুষ্যতের পক্ষে সকল প্রকার অন্যায় অসত্যকে গানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করে সুন্দর এক স্বপ্নিল পৃথিবী গড়া তোলা  যেখানে কোন তারকাকে আর এরকম করুণ পরিণতি বরন করতে হবে না। বরং তারকাদের জীবন হবে সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য আদর্শ। এটাই মাইকেল জ্যাকসনের শোকাহত প্রতিটি ভক্তবৃন্দে

মাইকেল জ্যাকসনের করুন পরিনতি থেকে শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন

Leave a Reply