১৯৬৯ সালে কুখ্যাত সাম্রাজ্যবাদী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরা বিভাগ প্রতিরার জন্য নিজস্ব নেটওয়ার্ক (American Defence Network) ব্যবস্থা গড়ে  তোলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল পারমাণবিক আক্রমণ ঠেকানোর জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদান ও সংরণ করা। এর নাম দেয়া হয় ‘আরপানেট’। আর আরপানেট সত্তরের দশকের শেষদিকে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক গন্ডির মধ্যে হাঁটি হাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু করে তখন হয়তো কেউ চিন্ত করেনি এই আরপানেট ধিরে ধিরে একটি মহীরুপে পরিণত হবে। পরবর্তীতে আরপানেট নাম পরবর্তীত হয়ে ইন্টারনেট নাম ধারণ করে। আর এই ইন্টারনেট স্বল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে পৌছে গেছে। মাত্র বিশ বছরের কম সময়েই সারা বিশ্বে এই ইন্টারনেট যেন একটি ডিজিটাল বিপবের সূচনা করেছে। বিশ্বে ধনী, দরিদ্র, ছোট বড় সকলকে যেন একীভূত করে একটি ডিজিটাল গ্রোবাল ভিলেজের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন তথা সমৃদ্ধির মাপকাঠি হিসাবে ইন্টারনেট সুবিধাকে নিয়ে আসা হচ্ছে। ইন্টারনেটকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তির সূতিকাগার। এটা জ্ঞানের অবারিত হাজার দরজা খুলে দিচ্ছে আমাদের সামনে। এর মাধ্যমে মানব সভ্যতা যেমন পরম উপকৃত হচ্ছে, তেমনি এর হাজার চরম অপকারিতাও রয়েছে। যা মানব সভ্যতাকে অবক্ষয়ের যাঁতাকলে নিক্ষেপ করছে। ইন্টারনেট বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ভয়ংকর হাতিয়ারে পরিনত হয়েছে। কারণ ইন্টারনেটের জন্মই হয়েছে সন্ত্রাসবাদী চিন্তা ধারা থেকে। তাই ইন্টারনেট এখন সন্ত্রাসের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেসব অপরাধ সংঘঠিত হয় তাকেই সাইবার ক্রাইম বা প্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধ বলা হয়। সাইবার ক্রাইমের সংজ্ঞায় বিখ্যাত ক্যামব্রিজ ডিকশনারীতে বলা হয়েছে-. Crime or illegal activity that is don using the internet.
এনসাইকোপিডিয়া অনুযায়ী ‘সাইবার ক্রাইম’ বলতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধ করা হয়, তাকেই বোঝানো হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে,

যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দ্যেশে বা ক্ষতি হবে মর্মে জানা সত্ত্বেও এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্যবিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা তার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস পায় বা অন্য কোনোভাবে এক ক্ষতিগ্রস্ত করে ।

যারা সাইবার ক্রাইম করে তাদেরকে বলা হয় প্রযুক্তি সন্ত্রাসী। তারাই প্রযুক্তি সন্ত্রাসী যারা- when people use the internet to damage or destroy computer system for political or other reasons unidentified cyber terrorists gained access to e-mails and finamial details of customers.

বর্তমান যুগ সাইবার সন্ত্রাসের যুগ। বর্তমানে ইন্টারনেট বা প্রযুক্তি জগৎ সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ডা বাস্তাবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়-শুধু সাইবার অপরাধের কারণে ২০০৭ সালে পৃথিবীতে ১০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এন্তেজানিয়ার দেশে সাইবার ক্রাইম পুরো সরকার ব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনেছে। সেখানে দুটি বড় ব্যাংক, ছয়টি সংবাদপত্র সহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। সেখানে হ্যাকাররা এসব সংস্থার সব তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। শুধু এন্তেজানিয়া নয় সাম্রাজ্যবাদীদের ইন্ধনে পৃথিবীর সকল দেশ সাইবার সন্ত্রাসে ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত। অনেক দেশ বিপন্ন হওয়ার পথে। কিন্তু যে সাম্রাজ্যবাদী  দেশগুলো সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে পৃথিবীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাও সাইবার সন্ত্রাস থেকে মুক্ত নয়। বরং উন্নত বিশ্বে সাইবার ক্রাইমের ঘটনাগুলোই বেশি ঘটছে। উন্নত বিশ্বে সাইবার অপরাধকে অপরাধের তালিকায় শীর্ষে স্থান দেয়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে সাইবার অপরাধীদের জন্য নতুন নতুন আইন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে যেন তা বেড়েই চলছে। বর্তমান ইউরোপে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তা দমনের জন্য “ইউরোপিয়ান সাইবার ক্রাইম” সেন্টার হচ্ছে। পুলিশের আর্ন্তজাতিক সংস্থা ইন্টারপোল জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের কারণে শুধু ইউরোপেই বছরে ক্ষতি হয় ৯২৯ বিলিয়নডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে-প্রতিদিন গড়ে অন্তত এক মিলিয়ন অর্থ্যা প্রায় ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় সাইবার অপরাধীদের দিয়ে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সাইবার অপরাধ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ইউরোপে। সাইবার অপরাধ বেড়ে চলার এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার সেসিলিয়া মালমস্টোম নিজেই। তার মতে, এই ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভরা। আর এ ভয় সর্বত্র ছড়ানো। কেননা এখন অনলাইনে কেনাকাটা করার ভয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যোগ দিতে ভয় এবং ভয় দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারেও। সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রন করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হ্যাকাররা বা সাইবার অপরাধীরা যখন এক দেশে বসবাস করে অন্য দেশে সাইবার অপরাধ ঘটায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপের সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার গঠন করা হচ্ছে ‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার’ এটা হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ ইউরোপোলের একটি অংশ। আর এর দফতর বসবে দ্য হেগ শহরে। শোনা যাচ্ছে, এ কমিশনের বার্ষিক বাজেট ধরা হয়েছে ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো। সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রনের লক্ষে এই কমিশনে যোগ দেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫ জন তদন্তকারী। আশা করা যাচ্ছে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে মাঠে সামবে এই ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রস অ্যান্ডারসন বলেন-গত ছয় বছরে সাইবার অপরাধ বেড়ে গেছে আশংকাজনক হারে। তার মতে বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশের বেশি পিসি ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত এবং ২০ টির ভেতরে একটি কম্পিউটার না জেনেই  স্প্যাম ছাড়াচ্ছে অন্যদের মাঝে।  এক গবেষনায় দেখা যায়-ইন্টারনেটে প্রতিদিন প্রায় ২৪৭ বিলিয়ন মেইল আদান প্রদান করা হয়। এর মাঝে ৮১% অর্থ্যা ২০০ বিলিয়নই হলো স্প্যাম। তারা যেন সাইবার অপরাধ নামক দানবের হাতে বন্দী হয়ে কেঁদেও মুক্তি পাচ্ছে না। সাইবার অপরাধের সাথে কেউ ইচ্ছা করলেই যুক্ত হতে পারেন না। তাকে হতে হবে অত্যন্ত মেধাবী। তাই আজ অপার সম্ভবনাময়ী এ মেধা গুলো সুন্দর পৃথিবী গড়ার পরিবর্তে আজ পৃথিবী ধ্বংসে ব্যস্ত। তাই সাইবার ক্রাইমের কারণে ধ্বংসের কবলে প্রযুক্তি জগৎ। রুখতে হবে এখনই সাইবার ক্রাইমকে, পৃথিবীর স্বার্থে, পৃথিবীর জনগণের ম্বার্থে, বাঁচাতে হবে প্রযুক্তি জগৎকে।  সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করতে হবে পৃথিবীর সকল সম্ভবনাময়ী প্রযুক্তিবীদকে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সাইবার অপরাধ ভবিষ্যতে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসবাদের দিকে এগুবে বলেও আশংকা করা হচ্ছে। আর সেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এখন থেকে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকা। কিন্তু আমরা কোথায়? সেই যুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমরা কি প্রস্তুত হচ্ছি?

বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত কয়েকটি সাইবার ক্রাইমের উলেখ করা হল ঃ-

১.সাইবার পর্ণোগ্রাফী ঃ

অনলাইন পর্ণোগ্রাফী বা সেলফোন পর্ণোগ্রাফী সম্পর্কে এখন কম বেশি সবাই জানেন। বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এর চাহিদা ব্যাপক। বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসায়ে যে সাইট গুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি তার তালিকা নিন্মরুপ –

* Ularz site পাইরেটেড বই, চলচ্চিত্র সংবলিত,

* নানা ধরণের পর্ণোসাইট।

* Tube-Video site –  কম দৈর্ঘ্যরে ছবি বা ভিডিও আপলোড করা যায়।

* বিভিন্ন ধরণের কমিউনিটি সাইট যেমন-ফেইসবুক, হাইফাইভ ইত্যাদী।

* বিভিন্ন ব্লক।

শুধু মাত্র ‘স’ আদ্যার সংবলিত একটি বহুল পরিচিত পর্ণোগ্রাফী ওয়েবসাইটে দৈনিক আপলোড হয় প্রায় এক হাজার ভিডিও, ডাউনলোড হয় প্রায় ২০ হাজার ভিডিও চিত্র। এই পুরো সাইটটি বাংলাদেশর নাগরিক বলে গণ্য মেয়েদের ভিডিও চিত্রের ওপর ভিত্তি করে চলে। এই ওয়েবসাইটটি মূলত পরিচালিত হয় একটেল সুমন-পিন্টুর তত্ত্বাবধানেই। তারাই বাংলাদেশে প্রথম সাধারণত মেয়েদের হয়রানিমূলক এই ক্রেজ টি চালু করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের সম্ভবনাময় তরুন সমাজ এখন এ কাজটিকে বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা বরে।

* মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থার গভেষনায় দেখা গেছে,পর্ণো ছবির দর্শকদের ৭৭% শিশু। স্কুল শিার্থীরা ভিড়িও মোবাইলে,সাইবার ক্যাফেতে,বাসাে ইন্টারনেটে পর্ণো ছবি দেখে থাকে।

এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমান ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারের প্রায় ২৫ ভাগই পর্ণোগ্রাফী। বর্তমানে ইন্টারনেটে মোট ২০,৫২,০৩,২০০ টি ওয়েবসাইটের মধ্যে ৫১,০০০০০০ টি পর্ণোগ্রাফী ওয়েবসাইট রয়েছে। শিশেিদর নিয়ে তৈরি অশীল ছবির ওয়েবসাইট রয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি। ১০ লাখের বেশি শিশুর ছবি রয়েছে এসব সাইটে। ১০ লাখের মতো অপরাধী এ সব অবৈধ ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত। তাহলে কি করে রা পাবে আমাদের তরুণ সমাজ ইন্টারনেটের এ ভয়ংকর পাপাচার থেকে? সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নামে খ্যাত ওয়েবসাইটগুলো ও তরুণ সমাজকে অবয়ের দিকেই ধাবিত করছে। সা¤প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান এক গবেষনা রির্পোট প্রকাশ করেছে। তাতে সামাজিক যোগাযোগের নামে তরুণদের নানা অপরাধের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট মাইস্পেস তরুণ সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে। এসব তরুণ মাইস্পেস ব্যবহার কারীর বেশিই ভাগই অনিরাপদ যৌন কিংবা মাদকাসক্তের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রকাশ করছে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকন মিনের গবেষক মিগ্যান মরিনো ২০০৭ সালের ১৮ বছরের ৫০০ তরুণ তরুণীর মাইস্পেস অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল বিশেষন করেছেন। এতে দেখা যায়, ৫৪ শতাংশ অ্যাকাউন্ট ধারীর প্রোফাইলে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ইঙ্গিত রয়েছে। ৪১ শতাংশের প্রোফাইলে পাওয়া গেছে মাদক ও বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য। ২৪ শতাংশের অ্যাকাউন্টে আছে যৌন আচরণের নজির এবং ১৪ শতাংশের প্রোফাইলে সহিংস ঘটনায় জড়ানোর মতো তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিশু ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গবেষক ড. দিমিত্রির মতে, যেসব তরুণ তরুণীর মাইস্পেস অ্যাকাউন্ট আছে তাদের অধিকাংশই এমন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে যা সহজেই চোখে পড়ে। আপত্তিকর আচরণ প্রমাণিত হওয়ায় মাইস্পেস এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার সদস্য অপসারণ করেছে। মাইস্পেস ব্যবহারকারীদের  রেকর্ড ঘেঁটে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  ধারণা করা হচ্ছে অপসারিত সদস্য সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে (পিসি ওয়ার্ল্ড)।

২. হ্যাকিং ঃ-

হ্যাকার একজন অপরাধী ব্যক্তি। তবে এই অপরাধীর মধ্যে একজন দ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। একজন হ্যাকার তথ্য প্রযুক্তিতে অনেকের চেয়ে দ এবং যোগ্য। কমিাপউটার ভাইরাস কোন তিকর রোগ জীবানু নয়। এটি একটি তিকারক প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রাম গুলো একজন বা একাধিক প্রোগ্রামার লিখে থাকেন। একজন প্রোগ্রামারের লেখা কোনো তিকর প্রোগ্রাম যখন কম্পিউটারে প্রবেশ করে ( বিশেষ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে) তখন ওই কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়। প্রেগ্রামাররা ওই প্রোগ্রামগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসকে ওয়ার্মও বলা  হয়ে থাকে। অনেক ভাইরাস আছে যেগুলো কম্পিউটারকে সরাসরি অচল করে দেয় না। কম্পিউটারে রতি বিভিন্ন ফাইল ও ফোল্ডার ওলট পালট করে ফেলে। কখনো কখনো কম্পিউটারে ঘাপটি মেরে থেকে কম্পিউটরের গতিকে ধীর করে ফেলে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রোগ্রামাররা অনেক ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করে ওয়েবসাইট নষ্ট করে ফেলে বা বিকৃত করে ফেলে। এমনকি আস্ত ওয়েবসাইটটিকে গায়েব করে ফেলে। যারা এ কাজ করে তাদেরকেই বলা হয় হ্যাকার। আর তাদের কাব্যগুলোকে বলা হয় হ্যাকিং। তারা ওই সব ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে সাইটে প্রবেশ করে যা কিনা নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরুপ। হ্যাকিং ঠেকাতে কম্পিউটার  জায়ান্টরা নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করলেও আশংকাজনক হারে রাড়ছে হ্যকারদের দৌরাত্ব। অনলাইন বিশ্ব এখন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স¤প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষনায় দেখা গেছে, হ্যাকররা প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একবার কম্পিউটারকে আত্রমন করছে। আর এর অধিকাংশই ঘটছে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড ভাঙ্গার মাধ্যমে। অ্যান্টিভাইরাস নিমার্তা প্রতিষ্ঠানগুলো হ্যাকারদের প্রধান পৃষ্টপোষক। তারা হ্যাকারদের মোটা অংকের বেতনে চাকরি দেয়। হ্যকারদের কাজই হলো মাঝে মাঝে তিকর প্রেগ্রাম লিখে অর্থ্যাৎ ভাইরাস তৈরি করে ব্যপক আকারে কম্পিউটার অচল করে দেয়া। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার এক বা দু‘দিন পর ওই ভাইরাসের এ্যান্টিভাইরাস বাজারে ছাড়ে হ্যকারদের পৃষ্টপোষক কোম্পানীগুলো, ওই এ্যান্টিভাইরাস আগেই তৈরি করা থাকে। ২০০৭ সালের এক সমীায় দেখা যায় সাইবার অপরাধের কারণে পৃথিবীর ১০ হাজার কোটি ডলার তি হয়। শুধু কম্পিউটার সংক্রান্ত তথ্যের তি হয় ৪ হাজার কোটি ডলার। ২০০৮ সালে কম্পিউটার হ্যাকাররা কমপে সাড়ে ২৮ কোটি রেকর্ড চুরি বা নষ্ট করেছে। এর আগের চার বছরে হ্যাকাররা যত রেকর্ড চুরি করেছে, গত বছর (২০০৯ সালে) তারা তার সমপরিমাণ রেকর্ড চুরি করেছে। শুধু তাই নয়,তারা কম্পিউটারগুলোকে অরতি করে রেখে গেছে। নতুন এক গকেষনায় এ তথ্য পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেরিজন কমিউনিকেশনস ইনকরপোরেটেড এই গবেষনা চালায়। ভেরিজন জানায়, চুরি করা রেকর্ডগুলোর ৯৩ শতাংশই অর্থ সংক্রান্ত। এতে আরো বলা হয়, তারা সব সময় চেষ্টা করেছে ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, ব্যাংকের স্পর্শকাতর সব তথ্য চুরি করতে। এছাড়া হ্যাকাররা কম্পিউটারগুলোতে অনুপ্রবেশের েেত্র অত্যাধুনিক সব প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে। সাইবার অপরাধীরা এখন আর আগের মতো শুধু কম্পিউটারের ভাইরাস আত্রান্ত করে ান্ত হচ্ছে না, বরং আক্রান্ত কম্পিউটারের থেকে তথ্য চুরি করে তা অনলাইনে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছে। গত (২০০৯ সালে) ইউরোপে অনুষ্ঠিত তথ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনের দিন জান নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ তথ্য জানায়। ইতিমধ্যে এ রকম স্পর্শকাতর চোরাই  তথ্য বিক্রি করার হাজারো ওয়েবসাইট গড়ে উঠেছে ইন্টারনেটে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের তথ্য বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। মাত্র কয়েক ডলারে এসব কার্ডের গোপন তথ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের যুক্তরাজ্যের ব্যাংক ও শিল্পের এক তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়-টেলিফোন, ই-মেইল, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে তি হয় তার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯০কোটি ৫ লাখ পাউন্ডের সমান।

* হ্যাকারদের আক্রমনের শিকার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। গত ২০০৯ সালে পেন্টাগণের ব্যয়বহুল যুদ্ধ সরঞ্জামের প্রজেক্ট  হ্যাক করেছে হ্যাকাররা। হ্যাকাররা এই প্রকল্পের সাথে সংশিষ্ট বেসরকারি খাতের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হ্যাক করতে সম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে সু-কৌশলে হ্যাকররা পেন্টগণের নেটওয়ার্কে ঢুকে এর ডিজাইন ও ইলেক্টনিক্সস সেটআপ সর্ম্পকিত তথ্য হাতিয়ে নিতে সম হয়েছে। হ্যাকাররা যুদ্ধ প্রজেক্টের প্রাথমিক কিছু ধারণা হাতিয়ে নিতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে (ওয়াল ষ্ট্রিট  জার্নাল)।

৩. স্প্যাম ঃ-

স্প্যাম ফিল্টার ছাড়া একজন ই-মেইল ব্যবহারকারী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ টি স্প্যাম মেসেজ পেয়ে থাকেন। ২০০৯ সালে বিখ্যাত এন্টিভাইরাস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাকঅ্যাফির এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাটির জন্য ম্যাকঅ্যাফি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কে এক মাস স্প্যাম ফিল্টার ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করতে বলা বলা হয়। দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ মোট ২৩ হাজার ২৩৩ টি স্প্যাম মেইল আসে। এবং ব্রাজিলের অংশগ্রহণকারীর কম্পিউটারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৮৫৬ টি ইমেইল আসে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা ১১ হাজার ৯৬৫ টি স্প্যাম ইমেইল পান। এ সময় সবচেয়ে কম স্প্যাম আসে জার্মানির প্রতিনিধির কম্পিউটারে। তবে এ সংখ্যাও ২ হাজার ৩৩১ টি। গবেষণাটির ফলাফল এটাই ইঙ্গিত করে বিশ্ব জুড়ে ইন্টারনেটে স্প্যাম আক্রমনের সংখ্যা তো কমেইনি বরং আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গবেষণাকালে স্প্যামগুলোর ধরণ ও পরিমাণ অংশগ্রহনকারীদের অবাক করে দিয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বেশি ভাগ সময়ই অখ্যাত নাইজেরিয়া স্প্যাম মেইল দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ধরণের মেইলে নাইজেরিয়া থেকে ইে ইন্টারনেট ব্যহারকারীকে  জানানো হয়, নাইজেরিয়ায় কেউ একজন উইল করে তার নামে বিপুল অংকের অর্থ রেখে গেছেন। আর এ অর্থ পেতে স্বভাবতই তার আর্থিক লেনদেনের গোপন তথ্য জানাতে বলা হয়। আর অর্থের লোভে অনেক সহজ সরল ব্যক্তি এ ফাঁদে পা দিয়েও থাকেন। গবেষণাটিতে দেখা গেছে ইন্টারনেটে মোট স্প্যাম মেইলের ৮ শতাংশই মূল উদ্দেশ্যই  হচ্ছে নানা ছলনায় ব্যবহারকারীর বিশ্বাস জিতে তার বিভিন্ন গোপন তথ্য যেমন- পাসওয়ার্ড , ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত , ইউজার নেম, পিন ইত্যাদী হাতিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের মতো আর্থিক বিষয়গুলোর স্প্যাম মইেলগুলোর আক্রমণের মূল ল্য বলে চিহিৃত। ম্যাক অ্যাফির পরিচালক বলেন-এ গবেষণার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে বর্তমানে স্প্যামগুলি অতিমাত্রায় উদ্দেশ্যমূলক এবং ইতিমধ্যেই সাইবার অপরাধের সাথে তাদের একটি যোগসূত্র স্থাপিত হয়ে গেছে।

৪. বোমাবাজি ঃ-

কয়েক বছর আগে আমেরিকার এক স্কুলে তেরো বছরের ৩ জন ছাত্র কাস রুমে বোমা পেতে রেখে বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বোমা ফাটায়। এভাবে বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বড় বড় বোমা ফাটানো সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

৫. এ্যাকশান গেম ঃ-

এ্যাকশান গেম বর্তমানে আরেক ভয়ংকর সাইবার অপরাধে পরিনত হয়েছে। এ্যাকশান গেমের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যাপকভাবে হত্যাযজ্ঞ সংঘঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিা প্রতিষ্ঠানে ভয়ংকর সব হত্যাযজ্ঞের পেছনে মূলত  এ্যাকশান গেমই দায়ী। ৫০ জন ছাত্র ও শিক হত্যাকারী লুই মেরোকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে সরাসরি উত্তর দেয় আমি শুধুমাত্র আমার কম্পিউটাারের গেমসের প্র্যাকটিস করেছি।

এছাড়াও ভিডিও ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা, ছবির সাথে নগ্ন ছবি যোগ করে দিয়ে চরিত্র হননের চেষ্টা, চাঁদাবাজী সহ আমাদের দেশে নানা ধরণের ছোট কাট সাইবার অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।

 

* পৃথিবীর আলোচিত কয়েকটি সাইবার অপরাধ ঃ-

১. দুঃসাহসিক সাইবার অপরাধ ঃ

মাথায় হাত ইউরোপের বিখ্যাত বেষ্ট ওয়েষ্টার্ন হোটেল গোষ্ঠীর। ২০০৭ সালে তাদের হোটেল গুলোতে যারা এসেছেন, তাদের সবার নামধাম, ফোন নম্বর ও ক্রেডিট কার্ডের যাবতীয় তথ্য এখন একটি রুশ মাফিয়া চক্রের হাতে । অন্তত ৮০ লাখ মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের মূলে রয়েছে এক ভারতীয়। স্কটল্যান্ডের একটি সংবাদ পত্র এই খবর জানিয়েছে। তাদের মতে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দুঃসাহসিক সাইবার অপরাধ। সংবাদপত্রটির দাবি ওই হোটেল গোষ্ঠীর মোট ১৩২২ টি হোটেলের যাবতীয় তথ্য রাতের বেলায় পাচার হয়েছে। হোটেলে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কোনো অথিতির ব্যক্তিগত তথ্য রাখার জন্য যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হতো তাতে একটি ভাইরাস ঢুকিয়ে সেই তথ্য গুলো নিমিষেই পেয়ে যেত ওই অপরাাধী (ইন্টারনেট)।

২. বিশ্ব ব্যাংক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ জালিয়াতির ঘটনা ঃ-

বিশ্ব ব্যাংক ইতিহাসে নবচেয়ে বড় অংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনার শিকার হয়েছে ফ্রান্সের দ্বিতীয় সারির ব্যাংক ‘সোসাইটি জেনারেল’ । বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে ইউরোপ আমেরকিা সহ সারা বিশ্বে। যে পরিমান অর্থ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে তা বিস্ময়কর। মার্কিন ডলারে ৭ দশমিক ১৪ বিলিয়ন। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর আগে বিশ্বে চাঞ্জল্যকর ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনাগুলোর আর্থিক তি মিলিয়নে সীমাবদ্ধ ছিল। সেসব রেকর্ড ভেঙ্গে এবার বিলিয়নের ধাক্কা। এ ধাক্কায় বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকেরই থর থর কম্প অবস্থা। কিভাবে এটি সম্ভব হলো? বিভিন্ন স্তরের কম্পিউটারাইজড সিকিউরিটি সিস্টেম কি তাহলে কোনো কাজেরই নয়? এ প্রশ্নে বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকররা নড়ে-চড়ে বসেছেন। নবচেয়ে অবাক করা তথ্য হচ্ছে প্যারিসের যে তরুণ ব্যাংক ব্যবসায়ীকে এ জালিয়াতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল তা সমর্থন করে না। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীর নাম জেরম করোভিয়েল।

* পৃথিবীর বিখ্যাত হ্যাকারবৃন্দ ঃ-

বিশ্ব বিখ্যাত কয়েকজন হ্যাকারদের নাম ও পরিচয় নিন্মে দেয়া হল-

# ও’নেল ডি গুজম্যান। তিনি একজন ফিলিপিনের যুবক। লাভবাগ নামের একটি ভাইরাস তৈরি করে সমগ্র দুনিয়ার কম্পিউটার শিল্পে আতংক হিসাবে আবিভূর্ত হয়েছিল। তার লেখা এই ভাইরাস বিশ্বের লাখো ক¤িউটার অচল করে দিয়েছিল। তি হয়েছিল কোটি ডলারের। এই ঘটনা তাকে বিশ্বময় খ্যাতি এনে দিয়েছিল। বড় বড় অ্যান্টিভাইরাস নিমার্তা প্রতিষ্ঠান গুলোর লাইন পড়ে গিয়েছিল  গুজম্যানের বাসার সামনে। গুজম্যান দেখে শুনে সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকানো কোম্পানীতে যোগ দেন। তার ভাইরাস কেলেংকারীর ঘটনায় কারণে আইনগত জটিলতায় কোন সাজা না হলেও দীর্ঘদিন তাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।

# গ্যারি ম্যাকিনোন নামের এক হ্যাকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিরাপত্তা সিষ্টেমে আক্রমন করেন। এই নিরাপত্তা সিষ্টেমের মধ্যে আর্মি এয়ার ফোর্স, নেভি এবং নাসা ছিল। হ্যাকিং ইতিহাসে এটাকেই বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম মিলিটারি হ্যাকিং বলে ধরা হয়। তবে গ্যারির একাজে তি হয় ৭ লাখ ডলার। হ্যাকিং ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আক্রমন সংঘঠনকারী ম্যাকিনেনের এখন বিচার চলছে।

# ডেভিড স্মিথ। তার তৈরি ভাইরাস মেলিসার আক্রমণে তি হয়েছিল ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই ভাইরাসের একটি বিশেষত্ব ছিল যে ব্যক্তি এই ভাইরাসটি  ই-মেইলের মাধ্যমে পায়, তাকে আরো ব্যক্তিকে পাঠাতে প্ররোচিত করে। এভাবে এই ভাইরাসটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ৬৫ হাজার বার ছাড়া হয়। এই ভাইরাসটির লেখক ডেভিড স্মেথকে এ অপরাধের জন্য ৪০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।

* সাইবার অপরাধের কবলে সারা পৃথিবী ঃ-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পর্যবেণকারী সংস্থা বলেছে-বিশ্বে সাইবার অপরাধের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ২০০৯ সালে তারা সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতির যত অভিযোগ পেয়েছে তা ২০০৭ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। ২০০৯  সালে সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দি ইন্টারনেট ক্রাইম কমপেইন সেন্টার (আইসিএ) নামের সংস্থাটি গত ২০০৯ সালে  ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৪৮ টি অভিযোগ পেয়েছে। এসব অপরাধের কারণে সাডে ২৬ কোটি ডলারের তি হয়েছে। আইসিএ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও ন্যাশনাল হোয়াইট কালার ক্রাইম সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। আইসিএ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এ বছর চরম অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও সাইবার অপরাধের এই হার আরও বাড়বে। ২০০৯ সালটি হবে সাইবার অপরাধীদের জন্য একটি ব্যস্ততম বছর। আইসিএ এর একজন কর্মকর্তা জন কেইন জানান-চলতি বছরের মার্চ মাসে অভিযোগের হার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি এসেছে। আইসিএ এর প্রতিবেদনে বলা হয় ২০০৭ সালে ইন্টারনেটে জালিয়াতির কারণে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তি হয়। ২০০১ সালে এ তির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সবচেয়ে বেশি সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর যুক্তরাজ্যে, এরপর যথাক্রমে নাইজেরিয়া, কানাডা ও চীনে সাইবার অপরাধ সংগঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি সাইবার অপরাধ হয়। এরপর রয়েছে নিউইর্য়ক  ও ফোরিডার অবস্থান (এপি)। বিবিসির এক রির্পোটে জানা যায়, বর্তমানে সাইবার ক্রাইমের ভয়ংকর রুপটি ফুটিয়ে উঠেছে। বড় ব্যবসা হয়ে উঠেছে এ সাইবার ক্রাইম। ‘ইন্টানেট ক্রাইম’ শিরোনামে রির্পোটে বলা হয়-ইন্টারনেট এখন অপরাধ পরিচালনার অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার নামে। তাছাড়া আন্ডার ওয়াল্ড সাইটের নিরাপত্তাও আগের চেয়ে অনেক বেশি হুমকির সম্মুখিন। কারণ হিসাবে সিমেনটেক জানিয়েছে, নিলামে সাইটের বিক্রয়ের সময় ব্যাংক এবং ক্রেডিট কার্ডের বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়। আবার বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের মাধ্যমেও ক্রাইম সংঘঠিত হচ্ছে। অপরাধীরা এটা বেশি করছে মাইস্পেস এবং ফেসবুকের মত জনপ্রিয় সাইটগুলোতে। এদিকে বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিনিধি রলি মেলন জানিয়েছেন, বর্তমানে উঠতি হ্যাকাররা বেশি করে ভাইরাস ছড়াচ্ছে এবং কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে আক্রমণ পরিচালনা করছে। এর পেছনে টাকা কামানোর কোন ধান্ধা নেই বরং মেধার অপব্যবহার করছে। এদিকে ই-ক্রাইম উদ্বেগ করেছে যুক্তরাজ্য। অনলাইনে অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু ই-ক্রাইম দমন, দ্রুত সংনাক্তকরণ ও অপরাধ সংঘটনের পর কার্যকর পদপে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো। আর এত উদ্বেগ বাড়ছে উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ দ্রুত বিকাশ হলেও সরকার ও প্রশাসন ই-ক্রাইম ঠেকাতে এখনো খুব বেশি দ হয়ে উঠতে পারেনি।

বর্তমানে হ্যাকিংয়ের ঘটনা কেবল বিদেশেই ঘটছে না আমাদের দেশেও ঘটছে। ২০০৯ সালে দেশে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে র‌্যাবের ওয়েবসাইট। ধৃত হ্যাকাররা র‌্যাবকে জানিয়েছে তারা সব মিলিয়ে ২১ টা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া বিদেশী হ্যাকার দ্বারা নোয়াখালী ওয়েব নামের একটি সাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে মালেশিয়ান দুই নাগরিকের  গ্রেফতারে দেশে সাইবার অপরাধের ব্যপকতা ল্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া স¤প্রতি সীমান্তে বিএসএফের নিরিহ বাংলাদেশী হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের হ্যাকারদের দ্বারা দু দেশের সাইট হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেশে বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাই বিশ্বের কোন দেশ সাইবার অপরাধের হাত থেকে মুক্ত নয়। তাই এটিকে রুখতে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

* সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে করনীয় ঃ-

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে নিন্মেক্ত প্রদপেগুলো গ্রহন করা যেতে পারে।

# সাইবার ক্রাইম এটি একটি আর্ন্তজাতিক সমস্যা। এ সমস্যা প্রতিরোধের জন্য জাতিসংঘের ত্তত্ত্বাবধানে একটি আলাদা কমিশন গঠন করে প্রদপে নিতে হবে।

# প্রতিরোধের জন্য সর্বপ্রথম অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানীগুলোকে আর্ন্তজাতিকভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ তাদের পৃষ্টপোষকতায় এসব হচ্ছে। তাই তাদের দমন করলে সাইবার অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।

# সাইবার অপরাধ দমনের জন্য যুগোপযোগী আইন ও নীতিমালা প্রয়োজন। প্রয়োজন সাইবার বা ভার্চুয়াল পুলিশ গঠনের এবং দেশ ব্যাপী কঠোর মনিটনিংয়ের। হ্যাকিংয়কে অপরাধ হিসাবে ঘোষনা দিয়ে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

ক্স          পর্ণো সাইট সমূহ কে একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। পর্ণোসইট তৈরি কারকদের কঠোর আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে সংশিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর আইপি এড্রেস। যাতে ব্যবহারকারী তা ব্যবহার করতে না পারে।

# দেশের সাইবার ক্যাফেগুলোকে একটি সুনিদিষ্ট নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ব্যবহার কারীর নাম ঠিকানা ও পরিচয় পত্র এন্ট্রি করে রাখতে হবে। আলাদা পাটিশন বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত স্থানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া পুলিশের নজরদারী বাড়ানো, সাইবার ক্যাফেসহ সকল পর্যায়ে এডাল্ট ফিল্টার বা পর্ণো প্রতিরোধক সফটওয়্যার বাধ্যতামূলক করতে হবে। সর্বোপরি নৈতিকতার বিন্তার ঘটাতে হবে সর্বেেত্র, কারণ নৈতিক অধঃপতনের কারণে মানুষ মূলত নানা অপরাধ মূলক কর্মতৎপতায় জড়িয়ে পড়ে। বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যার ভাবে নিষ্পেষিত দারিদ্র পীড়িত এক সম্ভবনাময় দেশের নাম বাংলাদেশ। ইন্টানেটের অবাধ অপব্যবহার, ডিজিটাল বাংলাদশের স্বপ্ন এবং সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বের ষড়যন্ত্রে সাইবার ক্রাইম আমাদের প্রিয় মাতৃভুমিকেও অশান্ত করতে পারে, যা আমাদের অস্তিত্ত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। যেখানে এন্তেজানিয়ার মতো  রাষ্ট্র সাইবার ক্রাইমে ধ্বংসের মুখোমুখি সেখানে আমাদের অবস্থা আরো করুণ। তাই এ ব্যাাপারে এখনই পদপে নেওয়া জরুরী।

 

সাইবার ক্রাইম ঃ তথ্য প্রযুক্তির এক নতুন অভিশাপ

Leave a Reply