অনেকেই আমরা গুগল এডসেন্স সম্বন্ধে জানি। পে পার ক্লিক [Pay Per Click(PPC)] সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে তারা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন যে গুগল এডসেন্স (Google Adsense) অন্য সমস্ত পিপিসি সাইটগুলোর চাইতে বেস্ট। কারন গুগল ক্লিক প্রতি সবচাইতে বেশি টাকা দেয় (একটা ক্লিকে ১ সেন্ট থেকে শুরু করে ৩-৪ ডলার পর্যন্ত), ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য এড পাওয়া যায়, সময় মতো টাকা পাওয়া যায় আর গুগল কোনরূপ প্রতারণা করে না। গুগল এডসেন্স থেকে এমন অনেকে আছেন যারা মাসে ১০০০ ডলার বা তার বেশি আয় করেন। তবে এজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ওয়েবসাইটের পিছনে। তবে মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার ইনকাম করা খুব একটা কঠিন বিষয় না, বাংলাদেশের অনেকেই তা নিয়মিত করছেন। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ব্লগিং করে মাসে ১০০ ডলার ইনকাম চমৎকার একটা ব্যাপার।

অনেকেই বিভিন্নভাবে আয় করতে যেয়ে অযাথায় সময় নষ্ট করেন, রেফারেল, এড ফ্লাই আরো হাবিজাবি বিষয়ের দিকে মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করেন। তবে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ইনকাম সম্ভব আউটসোর্সিং এর কাজ থেকে। আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে একটা ভাল অবস্হানে আছে। অনেক ভাল প্রোগ্রামার আর ডিজাইনার আছে বাংলাদেশে। এরপরই এড থেকে ইনকাম করতে চাইলে গুগল এডসেন্স এর বিকল্প নাই। আর সবচাইতে বড় কথা কাজগুলো ক্রিয়েটিভ, মজা পাওয়া যায়। আয় করতে হলে একদিকে যেমন সাইটের ডিজাইন মানসম্মত ও সুন্দর করা জানতে হয় আবার সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজও শিখতে হয়। তবে মাসে ১০০ – ২০০ ইনকাম করতে চাইলে খুব বেশি একটা সময় ব্যয় করতে হয় না।

কিভাবে গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলবেন:

গুগল থেকে এডসেন্স একাউন্ট পেতে প্রথম কাজ হলো একটা ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানানো। একটা ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে ওয়েবসাইট বানানো  বেশি ভাল। ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করলেও কোন সমস্যা নাই। তবে যাদের জন্য ডোমেইন কেনা ঝামেলা তারা ব্লগস্পট বা গুগল ব্লগার থেকে সহজ উপায়ে একটা ব্লগ বানিয়ে নিতে পারেন। একদম রেডিমেড, দু তিনদিন ভালভাবে ঘাটলেই ব্লগস্পট সম্বন্ধে অনেককিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

ব্লগ বানানোর কাজ শেষ হওয়ার পর, দ্বিতীয় কাজ হলো কন্টেন্ট লিখা বা পোস্ট করা। ব্লগ বা ব্লগের কন্টন্ট অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে। গুগল এখনও বাংলা সাপোর্ট করে না। আর পোস্টগুলো হতে হবে ইউনিক, মানে অন্য কোথাও থেকে কপি পেস্ট করলে চলবে না। বিষয়বস্তু নির্ধারন করে সহজ সুন্দর নিজের ভাষায় কন্টেন্ট লিখতে হবে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ টা পোস্ট করতে পারলেই চলবে। গুগল এডসেন্স এ আবেদন করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটাই।

এখন কাজ হলো এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন করা। এজন্য একটা জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে। জিমেইলে লগইন করে আবেদন করুন। লিংক: গুগল এডসেন্স। দুধরনের একাউন্ট খোলা যায়, পার্সোনাল আর বিজনেস একাউন্ট। পার্সোনাল হলে নিজের নামে একটা ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে আর বিজনেস হলে বিজনেসের নামে। একাউন্ট না থাকলে পরে করলেও চলবে। আবেদনে যা যা চায় পূরণ করে সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর গুগল দু তিনদিন সময় নেয় ভ্যারিফাই করার জন্য। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ঠিক থাকলে আর বিষয় বস্তু পর্ণ, কপিরাইট বা অন্যান্য ক্ষতিকারক বিষয়ের উপর না হলে গুগল সাধারণত কোন ঝামেলা ছাড়াই এ্যাপ্লিকেশন এ্যাপ্রুভ করে।

ভুলেও কখনও দু তিনটা এডসেন্স একাউন্ট খোলার চেষ্টা করবেন না। প্রথমবার যদি এ্যাপ্লিকেশন এপ্রুভ না হয় তাহলে আর কিছু সময় নিয়ে ওয়েবসাইট ঠিকঠাক করুন বা কন্টেন্ট বাড়ান। গুগল যদি একাউন্ট এপ্রুভ না হওয়ার কারন হিসেবে দেখায় “Page Type are not supported”, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার ওয়েবসাইটে অরিজিনাল কন্টন্ট খুব কম বা কপি পেস্ট বেশি অথবা আপনার সাইটে কন্টেন্ট খুব কম। সাইট আপডেট করে একই জিমেইল একউন্ট থেকে এডসেন্সে আবার আবেদন করুন।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট এপ্রুভ হওয়ার পর – কিছু টিপস:

একাউন্ট এ্যাপ্রুভ হওয়ার পর কাজ হলো গুগল এডসেন্স একাউন্ট থেকে এড ব্লক তৈরি করে ওয়েবসাইটের পেজ এ প্লেস করা। এড প্লেসিংটা গুরুত্বপূর্ণ, এমন জায়গায় প্লেস করবেন যাতে ভিজিটররা বিরক্ত না হয়। পোস্টের শুরুতে বা মাঝামাঝি হলো সবচেয়ে বেস্ট জায়গা, এখান থেকে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটে শুধু এড লাগিয়ে রাখলেই টাকা আসবে না। আপনার সাইটে ভিজিটর আসতে হবে। ধরে নিতে হবে প্রতি একশ জন ভিজিটরে একটা করে এডে ক্লিক পাবেন। ভিজিটর বেশি পাওয়ার জন্য সার্চ ইঞ্জিন ওপটিমাইজেশন (এসইও) গুরুত্বপূর্ণ। আমার পরের পোস্টে এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অন পেজ অপটিমাইজেশন নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছি।

গুগল এডসেন্স একাউন্ট সচল রাখতে যা যা করতে হবে:

মনে রাখতে হবে গুগল আমাদের চরম বন্ধু। কোন প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া যাবে না। নিজে কখনও ভুলেও একটা ক্লিক করবেন না বা কাউকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করবেন না। কয়েকটা ইনভ্যালিড ক্লক পরলে গুগল এডসেন্স একাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে। একবার বাতিল হলে চির জীবনের মতো বাতিল, আপনি তখন গুগলের শত্রু, আপনার নামে আর কোন এডসেন্স একাউন্ট খুলতে পারবেন না। শুরুতেই গুগলের ট্রামস এন্ড কন্ডিশন পরোপুরি পড়ে নেওয়া ভাল। ট্রামস পুরো ১০০% মেনে চলতে হবে, ৯৯% মানলেও হবে না। মোটকথা, সুন্দর ছিমছাম একটা ওয়েবসাইট বানান, কপি পেস্ট ছাড়া নিয়মিত আপডেট দিন, লেখার জন্য স্ট্যান্ডার্ড টপিক (যে বিষয়গুলোতে মানুষের আগ্রহ বেশি) বাছাই করুন, এসইও সম্বন্ধে কিছুটা ধারণা নিন। সার্চ ইঞ্জিন আর গুগল এডসেন্স এর ব্যপারে আরো জানতে পারবেন জিন্নাত উল হাসান ভাইয়ের ব্লগে, টেকটিউনস থেকেও অনেক সাহায্য পাবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে আয় – কিছু টিপস

2 thoughts on “গুগল এডসেন্স থেকে আয় – কিছু টিপস

Leave a Reply