আমিনীর কার্যকলাপে মনে হচ্ছে উনি পাগল হয়ে গেছেন। উম্মাদের মত আচরন শুরু করেছেন। আজকের হরতালের পর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী আগামী ১০ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ছয়টি বিভাগে মহাসমাবেশ আর ২৭ মে ঢাকায় মহাসমাবেশ, ২০ এপ্রিল ঢাকায় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক সব নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি করেছেন। আর মুক্তি না দেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুমকি তিনি দিয়েছেন।

ভাবতে অবাক লাগে, ছোট একটা ইসলামী দল, তারও আবার ভাগ আছে, দলটার একটা অংশের চেয়ারম্যান আমিনী। উনি আবার হরতালও ডাকার সাহস পান, অবাক ব্যাপার হচ্ছে আজকের হরতাল কর্মসূচীতে আমিনী ভালভাবেই সফল হয়েছেন। অধিকাংশ মানুষ আজকে অফিস করে নি, সরকারী বাস গুলো একটাও আজ বের হয় নি, রাস্তাঘাত মুটামুটিভাবে ফাঁকা ছিল সারাদিন।

এই উম্মাদ লোকটাকে মনে হয় বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হয়ে যাচ্ছে, একের পর এক কর্মসূচী দিয়ে যাচ্ছেন, অগনতান্ত্রিক আচরন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ একটা গনতান্ত্রিক এবং সেকুলার রাষ্ট্র। একটা গনতান্ত্রিক দেশের সাথে ইসলামী আইন কোনভাবেই খাপ খায় না। গনতান্ত্রিক দেশে নারী পুরুষের সমান অধীকার থাকবে এটাই স্বাভাবিক, আমিনী সমান অধিকার চান না, নারীর ক্ষমতায়ন চান না, ১৪০০ বছর আগেকার আরবীয় আইন কানুন চান। এত ইসলামী আইন চাইলে এদেশে থাকারই দরকার কি‍! সৌদি আরব যেয়ে সৌদি বাদশার পা চাটুক।

আমিনীর দাবী অনুযায়ী সরকার কুরান ও হাদিস বিরোধী আইন করতে চাচ্ছেন। এদেশের আইন অনুযায়ী নারী পুরুষের অধিকার সমান, সেক্ষেত্রে সম্পত্তিতেও নারী পুরুষ সমান অধীকার পাবে এটাই স্বাভাবিক। সম্পত্তিতে  নারীদের বঞ্চিত করা হলে নারী পুরুষ সমান অধিকার আর কিভাবে হলো! যারা ইসলাম পুরোপুরি ফলো করেন, তারা ছেলেদের যা সম্পত্তি দিবে, মেয়েদের যদি তার অর্ধেক দিতে চায়, তো দিক, সরকার আর আইন তো সেক্ষেত্রে নাক গলাচ্ছে না। বিষয়টা আইনের আওতায় আসবে তখনই যখন মেয়েটা অভিযোগ করবে এবং আইনের আশ্রয় চাইবে সম্পত্তির সমান অধিকারের জন্য। ধর্ম পুরোপুরি পালন করে এমন কয়টা মেয়ে আছে যারা বাপ মায়ের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবে! মোট কথা যারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করবে এবং আইনের সাহায্য চাইবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই এ আইন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ আইন করতে চেয়েও মোল্লাদের লাফালাফির কারনে তারা করতে পারেন নি। বর্তমান সরকারও যদি গুটিকয়েক মোল্লার ভয়ে নতুন নারী নীতিমালার এ বিয়ায়টি সংশোধন করে তাহলে সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা পুরোপুরি চলে যাবে। ভাবতে অবাক লাগে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সামনের রাস্তায় লালনের ভাস্কার্যের পরিবর্তে যেটি স্হাপন করা হয়েছে তাতে আরবীতে লেখা। বাংলা নাই, ইংরেজি নাই, আছে আরবী! মানুষ বাংলাদেশে ঢুকে প্রথমেই যা দেখবে তা হলো আরবি। কত বড় অপমান বাংলা ভাষার উপর!! শুধু ভাষা না, বাংলাদেশের সংস্কৃতির উপরও একটা আঘাত। কারন ঐ বস্তুটা আমাদের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না, করে আরবীয় সংস্কৃতির।

দেশের ইসলামী দলগুলোর আবার দুটো ভাগ। জামায়াতী ইসলামী পাকিস্হানকে ফলো করে, পাকিস্হানী রাজনীতি আর পাকিস্হানী সংস্কৃতি তাদের আদর্শ। এদের গুরু পাকিস্হানের বর্বর ধর্মীয় নেতা মওদুদী। আর অন্য ছোট দলগুলো সৌদি আরব ফলো করে। এদের কেওই পরিপূর্ণ গনতন্ত্র চায় না, ১৪০০ বছরের পুরোনো বর্বর আইন চায়।

জামায়াতে ইসলামী হরতালে অংশগ্রহন করে নি এই ভয়ে জনগন বুঝে ফেলবে যে তাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করাই আসল উদ্দেশ্য। কিন্তু ঠিকই তারা তল দিয়ে উৎসাহ যুগীয়ে যাচ্ছে আর মূল উদ্দেশ্য ঐ একটাই – যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা। কয়েকটা বছর অপেক্ষা করাতে পারলে পরের নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা বেঁচে যায় আর দলটাও টিকে থাকে।

একটা স্যেকুলার রাষ্ট্রে ধর্মীও রাজনৈতিক দল শোভা পায় না। রাষ্ট্র থাকবে ধর্ম থেকে পৃথক, ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্রিয় আইন প্রাভাবিত হবে না। আইনের দায়িত্ব জনগনকে রক্ষা করা করা, জনগনের অধিকার নিশ্চিত করা। ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা পেলে ও ইসলামী দলগুলো ক্ষমতায় গেলে তারা প্রথমেই দেশের সংস্কৃতিকে প্রহার করে বিতারিত করার চেষ্টা করবে। এরা দেশের চাইতেও ধর্ম আর ধর্মীয় সংস্কৃতি বেশি ভালবাসে। আমার মতে এরা দেশদ্রহী। দেশদ্রহী আমিনী আর তার সাঙ্গপাঙ্গদের দেশ থেকে বিতারিত করে সৌদি আরব পাঠানো হউক, তারা সেখানে মনের ইচ্ছামত ইসলাম পালন করে ইসলামের গুষ্টি উদ্ধার করুক।

 

আমিনীর পাছায় লাথি দিয়ে সৌদি আরব পাঠানো হোক

8 thoughts on “আমিনীর পাছায় লাথি দিয়ে সৌদি আরব পাঠানো হোক

Leave a Reply