আমার সবচাইতে প্রিয় মানুষগুলোর একজন ছিলেন হুমায়ূন আজাদ স্যার। অনেকেই বলেন স্যার ভুল সময়ে এ পৃথিবীতে এসেছেন। হয়তোবা তাই! এই ধর্মান্ধ সমাজের কয়জনের ক্ষমতা আছে হুমায়ূন আজাদকে বুঝার! এমন সত্যনিষ্ঠ, অকুতোভয় মানুষ সহস্র বছরে একবার জন্ম নেয়। স্যারের মতো মানুষরা পচনশীল সমাজের ভীতে বড় রকম আঘাত করে পরিবর্তনের সূচনা করে দিয়ে যান। স্যার মুক্তমনা, মুক্তচিন্তা আর যুক্তিবাদী মানুষদের প্রেরণার উৎস ও নপুংসক – ভন্ডদের জন্য বিভীষিকা।

হুমায়ূন আজাদ স্যারের কয়েকটি উক্তি:

  • আমার অনুরাগীরা চরম অনুরাগ প্রকাশের সময় খুব আবেগভরে বলেন যে আমার মতো পন্ডিত ও প্রতিভাবান লোক আর নেই; তাই আমার অনেক কিছু হওয়া উচিত। যেমন অবিলম্বে আমার হওয়া উচিত কোনো একাডেমির মহাপরিচালক, বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইত্যাদি। শুনে আমি তাঁদের ও নিজের জন্যে খুব করুণা বোধ করি। আমি হতে চাই মহৎ, আর অনুরাগীরা আমাকে করে তুলতে চান ভৃত্য।
  • শয়তানই আজকাল আল্লা আর ঈশ্বরের নাম নিচ্ছে প্রাণ ভরে। আদিম শয়তান আর যাই হোক রাজনীতিবিদ ছিলো না, কিন্তু শয়তান এখন রাজনীতি শিখেছে; আল্লা আর ঈশ্বর আর জেসাসের নামে দিনরাত শ্লোগান দিচ্ছে।
  • মুসলমানের মুক্তি ঘটে নি, কারণ তারা অতীত ও তাদের মহাপুরুষদের সম্পর্কে কোনো সত্যনিষ্ঠ আলোচনা করতে দেয় না।
  • মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে দুটি তত্ত্ব রয়েছে: অবৈজ্ঞানিক টি অধ:পতনতত্ত্ব, বৈজ্ঞানিক টি বিবর্তনতত্ত্ব। অধ:পতনতত্ত্বের সারকথা মানুষ স্বর্গ থেকে অধ:পতিত। বিবর্তনতত্ত্বের সারকথা মানুষ বিবর্তনের উৎকর্ষের ফল। অধ:পতনবাদীরা অধ:পতনতত্ত্বে বিশ্বাস করে; আমি যেহেতু মানুষের উৎকর্ষে বিশ্বাস করি, তাই বিশ্বাস করি বিবর্তনতত্ত্বে। অধ:পতনের থেকে উৎকর্ষ সবসময়ই উৎকর্ষ।

তাঁর প্রবচনগুচ্ছ নিয়ে এই ব্লগে একটা পোস্ট আছে, দেখুন: প্রবচনগুচ্ছ : হুমায়ুন আজাদ

পরিচিত:

জন্ম : ২৮ শে এপ্রিল, ১৯৪৭ সাল।

মৃত্যু : ১১ ই আগস্ট, ২০০৪।

হুমায়ূন আজাদ ২০০৪ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা একাডেমির কাছে মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হন, এর পর থেকেই মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলেন। মারা যান এ বছরেরই ১১ ই আগস্ট জার্মানীর মিউনিখে।

শুভ জন্মদিন স্যার।

হুমায়ূন আজাদ স্যারের জন্মদিন আজ

Leave a Reply