এ সপ্তাহের সবচাইতে আলোচিত ঘটনা পারসোনা কেলেংকারী। আর গতকালের সবচাইতে আলোচিত সংবাদ হলো পারসোনা নিয়ে প্রথম আলোর রিপোর্ট। চারিদিকে নানা গুজব। কেউ বলে মতিউর রহমানের সাথে কানিজ আলমাসের পার্সোনাল সম্পর্ক আছে, আবার কেউ কেউ হিসেব করছেন প্রথম আলো পারসোনার কাছে থেকে কত টাকা খেয়েছে।

কানিজ আলমাস ও মতিউর রহমান

কথাগুলো যে যুক্তিসঙ্গত তা প্রথম আলোর রিপোর্টটা পড়লেই বোঝা যায়। রিপোর্টটা আসার পর প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করনে পাঠকদের করা শত শত মন্তব্যের বেশিরভাগই তারা ডিলিট করে দিছে। একটু আগেও যে মন্তব্যগুলো দেখে আসলাম, এখন আর তা পাচ্ছি না। আর এখন নিউজটা আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না, সরাসরি লিংক ব্যবহার ছাড়া। নিউজটার লিংক: পারসোনার সিসি টিভিতে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি

অসংখ্য ডিলিট করা মন্তব্যের একটি

রিপোর্টটা লিখেছেন তৌহিদা শিরোপা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি নকশায় রূপচর্চা বিষয়ে লেখার সময় কৌশলে পারসোনার নাম তার লেখায় ঢুকিয়ে দেন। ভুক্তভোগীর স্বামী ও কামিজ আলমাস একটা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি যা বলেছেন না মেনে নেওয়ার মতো না। কারন ঘটনার দিন তিনি যে আচরন করেছেন, এখন তার উল্টো আচরন করছেন। মনে হচ্ছে তাকেও টাকা দিয়ে বা অন্য কোনভাবে কানিজ আলমাস বশ করে ফেলেছেন। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “সেদিনের ঘটনাটি ভুল-বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে আমিও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ থাকলে তো থানায় গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মামলা করতাম। কাউকে হেয় করার ইচ্ছা আমার নেই, ছিলও না।” এখন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের রিপোর্টা দেখুন, অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়বে।

httpv://www.youtube.com/watch?v=NlzyyeuFZj0

এবার এটিএন এর রিপোর্টা দেখুন।

httpv://www.youtube.com/watch?v=Agxgrg9tyOY

কিছু প্রশ্ন:

১। পুলিশ যদি কিছু না পায় তাহলে গুলশান থানার এসআই মেহেদী মাসুদকে আলামত নষ্টের অভিযোগে ক্লোজড করা হল কেন? তার মানে আলামত কিছু ছিল যা নষ্ট করা হয়েছে এবং এখন আর নাই।

২। ব্যাপারটা যদি এতই সহজ হয় তবে ইলেক্ট্রিশিয়নের ভুলে ক্যামেরা সরে গেছে এটা আগে বলল কেন? তখন কেন বলতে পারল না সেখানে তো স্পাই নাই স্পা রুম কোথা থেকে আসে?

৩। পোশাক পরিবর্তনের রুমে সিকিউরিটি ক্যামেরা থাকবে কেন? এখানে নিরাপত্তার দরকার কি?

৪। ভিডিওতে যদি আপত্তিকর অংশের ছবি না থাকত শুধু গলা পর্যন্ত (কানিজ আলমাসের দাবি অনুযায়ী) তা হলে সে ভিডিও জনসম্মুখে প্রকাশে কোন বাধা থাকার কথা না। ঘটনার সময় উনি উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই পুরো ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে পারতেন। ভিডিও না প্রকাশের চেষ্টা করাটাই প্রমান করে সেটা আপত্তিকর ভিডিও ছিল।

৫। কানিজ আলমাসের দাবী, ক্যামেরাগুলোর লিংক শুধুমাত্র তার রুমের কম্পিউটারের সাথে, অন্য কোথাও থেকে দেখা যায় না। তাহলে নিউজে দুজন পুরুষকে দেখা যাচ্ছে, তারা এলো কোত্থেকে?

৬। ঘটনার পরপরই, পুলিশ আসার আগেই ক্যামেরা সরিয়ে ফেলা হলো কেন?

৭। ভবিষ্যতে যাতে এভাবে ক্যামেরা না লাগাতে না পারে , সেটা দেখবে পুলিস । ক্যামেরা যদি খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যাবহারই না হয় , তবে ভবিষ্যতে এটা বন্ধ করবে কেন ? এর অর্থ , অতীতে খারাপ উদ্দেশ্যে এর ব্যাবহার হয়েছে। তার বিচার পুলিশ কেন করবে না ? আমরা জানতে চাই, ঠিক কত টাকা লেনদেন হয়েছে পুলিসের সাথে ?

৮। ভিডিও ফুটেজে আপত্তিকর কিছু না থাকলে সেই সময় উনি এতটা উত্তেজিত হতেন না এবং পার্সনার কর্মচারী দুটি পেনড্রাইবে ভিডিও ফুটেজ সরারনোর চেষ্টা করতেন না।

৯। কানিজ আলমাস বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কথা বলছেন সামঞ্জস্যহীনভাবে। তিনি প্রথমে বলেছেন, ইলেক্ট্রিশিয়ানের ভুলে ঐ রুমে cctv ভুল জায়গায় লাগানো হয়েছিল। পরে তিনি বলেছেন, cctv প্রতিটা রুমেই আছে যা কাস্টমারের নিরাপত্তার জন্য লাগানো আছে। আজকে প্রথম আলোর লিংকে ঐ ইলেক্ট্রিশিয়ানের ভুলের কথা কিছুই দেখা গেল না।

যাই হোক, মানুষ এখন অনেক সচেতন। এখন আর যা খুশি গেলানো যায় না। সত্য ধামাচাপা থাকার দিন শ্যাষ। আমরা সামাজিক সাইডগুলো আর বাংলা ব্লগগুলোর কল্যানে আমরা এখন সত্যটা বুঝতে পারি। জয়তু বাংলা ব্লগ।

পারসোনা কেলেংকারী ও প্রথম আলোর মিথ্যাচার

Leave a Reply