স্বাধীন বাংলাদেশের ৪০ বছর সম্পন্ন হলো, আজ ৪১ তম বছরে পা দিল বাংলাদেশ। যারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায় নি, বরং সর্বাত্মকভাবে পাকিস্হানিদের সাহায্য করেছে বাংলাদেশ নামক একটি দেশের সৃষ্টি যেন না হয়, দুঃখের বিষয় এখনও তারা এ বাংলার মাটিতে সুখে শান্তিতে আছে। তবুও আশার বিষয় এ সরকার এই নরপশুদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আমরা যুদ্ধ দেখিনি, সে সময় আমাদের জন্ম হয়নি। যতটুকু জানি তা ইতিহাস পড়ে, এ টুকুতেই এ রাজাকার আলবদরদের ছবি দেখলে, এদের নাম শুনলে এদের প্রতি ঘৃণাই গা রি রি করে, এদের গায়ে থুতু ফেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো সে সময় যারা এদের ভয়াবহ নারকীয় কান্ড দেখেছেন তারাও এ ৪০ বছরে এদের কোন বিচার করেন নি। রাজাকাররা বরং অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতে ভাল অবস্হানে আছে, ভাবতে অবাক লাগে এই দেশদ্রহীরা এদেশের শাসন ক্ষমতারও একটা অংশ হয়, দেশ চালায় এরা আর মুক্তিযোদ্ধাদের এদের কথায় ওঠা বসা করতে হয়।
জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও এই নরপশুগুলোর বিচার করেন নি। এরশাদ তো বিচার করেনইনি বরং গোলাম আজম নিজামীদের সংঘটিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আর খালেদা জিয়া তো এদের রাষ্ট্রিয় ক্ষমাতাতেই এনেছেন। একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তার দলে শাহজাহান সিরাজের মতো মানুষ বিদ্যমান, অথচ এই দল এই দেশদ্রহীদের আগলে রাখে, বড়ই কষ্ট লাগে এসব দেখলে। বাঙালি কতই না বিচিত্র! কত সহজেই সব ভুলে যায়!
শেখ হাসিনাও করেননি এতদিন। তবুও শেষ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জানি না কতদুর অগ্রসর হবে! এই রাজাকার বাহিনীর নাকি ক্ষমতা অনেক, তাদের বিভিন্ন দেশের ব্যাকআপ আছে। এইসব বাঁধা অতিক্রম করে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয়তো কঠিন, কিন্ত অসম্ভব না। ইউনুসকে অপসারন করাও অনেক কঠিন ব্যাপার ছিল সরকার সেটা করে দেখিয়েছে যদিও এখনও অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, অনেক বাঁধা অতিক্রম করে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তাহলে রাজাকারদের বিচার বাদ থাকবে কেন!
কষ্ট লাগে যখন দেখি এদেশের মাটিতে এদেশেরই ছেলেমেয়েরা পাকিস্হানের পতাকা হাতে যখন উল্লাস করে। এদের মাথায় তখন আসেনা যে এই পাকিস্হান ১৯৭১ সালে বাঙালিদের পশু পাখির মতো হত্যা করেছে, বাঙালি মেয়েদের ধর্ষণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছে! আমরা কি নির্লজ্জ্বের জাতিতে পরিনত হচ্ছি দিন দিন! আসলে রাজাকারদের যতদিন না বিচার হবে, এরা ইসলামের নামে তলে তলে পাকিস্হানের গুনগান প্রচার করে যাবে এ দেশে। তরুন প্রজন্মের ব্রেন ওয়াশ করে এই রাজাকাররা শিবির নামের তরুন প্রজন্মের একটা গ্রুপ তৈরি করেছে, এরা পাকিস্হান বলতে পাগল। স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে তাদের ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়, অনেক কিছু গোপন করা হয়। এরা মানুষ না, এক একটা সাইকো হিসেবে বড় হচ্ছে। এরা নাকি অসীম সাহসী, প্রাণ দিতে দ্বিধা করে না! আসলে এই সাইকোগুলো প্রাণ দিতে দ্বিধা করবে না এদের দলকে বাঁচানোর জন্য, ওই রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য। বিকৃত মানসিকতার রাজাকাররা নিজেদের বাঁচানোর জন্য বিকৃত একটা প্রজাতি তৈরি করেছে, ধর্মের নাম দিয়ে তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
আশা নিয়ে আছি আমরা, একদিন এ বাংলাদেশ হবে রাজাকার মুক্ত। স্বাধীনতার এই ৪১ তম বছরই হোন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের বছর।


দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।